স্পোর্টস ডেস্ক: আইপিএলের আগামী মরসুমের আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধনে। শনিবার সমাজমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি। জয়বর্ধনের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন কোচের খোঁজ শুরু করেছে মুম্বই। পাশাপাশি, আগামী মরসুমের আগে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচ হিসেবে জয়বর্ধনের যাত্রা দু’দফায় বিস্তৃত। প্রথম বার ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দলের দায়িত্ব সামলান তিনি। পরে ২০২৪ সালে আবার প্রধান কোচ হিসেবে ফিরে আসেন। ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিল তাঁর দ্বিতীয় দফার দায়িত্ব। তাঁর প্রশিক্ষণে মুম্বই পাঁচটি আইপিএল খেতাবের মধ্যে তিনটি জিতেছিল। ফলে দলের সাফল্যের ইতিহাসে জয়বর্ধনের অবদান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি মুম্বই। ২০২৪ সালের প্রতিযোগিতায় পয়েন্ট তালিকার একেবারে নীচে শেষ করেছিল দল। পরের মরসুমে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্ব পর্যন্ত পৌঁছলেও ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ফের হতাশাজনক ফল করে তারা। এ বার পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে শেষ করতে হয় পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের। সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতাই দলের পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অন্যতম কারণ কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জয়বর্ধনের জায়গায় নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সূত্রে জানা গিয়েছে।
রবিবার থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা। দলের ভাবনাচিন্তায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে পরবর্তী কোচ কে হবেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। কোচের পরিবর্তনের পাশাপাশি অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়েও বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আইপিএলের আগে হার্দিককে অন্য দলে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে মুম্বই। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির কাছ থেকে প্রস্তাব গ্রহণ করতেও তারা আগ্রহী বলে সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
বিদায়বেলায় জয়বর্ধনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই দল তাঁর ক্রিকেটজীবনের বিশেষ অংশ। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, সমর্থক এবং দলের কর্তাদের সঙ্গে কাটানো সময় তাঁর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নীতা আম্বানি ও আকাশ আম্বানির প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। প্রধান কোচের দায়িত্বের পাশাপাশি জয়বর্ধনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিশ্বব্যাপী পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর সময়ে মুম্বইয়ের মহিলা দল এবং বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলি খেতাব জিতেছে। তাই তাঁর বিদায় শুধু কোচ বদল নয়, মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।





