মোহালি: সাধারণ একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা বোধহয় কল্পনাও করেননি ওই ডেলিভারি কর্মী। দরজায় পার্সেল নিতে এসেছিলেন মহিলা। ঠিক সেই সময় বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাসের উনুনে বসানো প্যানে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, দিশাহারা হয়ে পড়েন মহিলা। কী করবেন বুঝে ওঠার আগেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন পার্সেল দিতে আসা যুবক। দ্রুত রান্নাঘরে ঢুকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভাসছেন ওই ডেলিভারি কর্মী।
https://x.com/thchakraindia/status/2112520998348353801?s=20
ঘটনাটি পঞ্জাবের মোহালির। চিকিৎসক শিবাঙ্গী জোশী সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাগ করে নেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর বাড়িতে পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছিলেন ওই ডেলিভারি কর্মী। শিবাঙ্গী দরজায় গিয়ে পার্সেল নেন। সেই সময় রান্নাঘরে উনুনের উপর বসানো প্যান থেকে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায়। বিপদ বুঝতে পেরে রান্নাঘরের দিকে ছুটে যান শিবাঙ্গী। কিন্তু কী ভাবে আগুন নেভাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি।
ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন ডেলিভারি কর্মী। পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়ার বদলে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন। আগুনের কাছে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেন। তাঁর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার কথা জানিয়ে শিবাঙ্গী লেখেন, ওই ব্যক্তি যখন বাড়িতে পার্সেল দিতে এসেছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর এই সাধারণ সফর জীবনের অন্যতম আবেগঘন স্মৃতি হয়ে উঠবে। রান্নাঘরে আগুন লাগার পরে কী করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না তিনি। সেই সময় ডেলিভারি কর্মী এক মুহূর্ত দেরি না করে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ আচরণে আপ্লুত শিবাঙ্গী।
সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে শিবাঙ্গী আরও লিখেছেন, মানুষের পোশাক, পেশা কিংবা কাজ দেখে অনেক সময় আমরা তাঁদের বিচার করি। অথচ বিপদের মুহূর্তে সাহস, সহমর্মিতা এবং অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই আসল পরিচয় হয়ে ওঠে। ওই ডেলিভারি কর্মীকে নিজের ‘ত্রাতা’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ হয়তো খুঁজে পাবেন না। কিন্তু এই ঘটনার কথা তিনি কোনও দিন ভুলবেন না।
শিবাঙ্গীর পোস্টের একটি বক্তব্য বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। তাঁর কথায়, কেউ পার্সেল পৌঁছে দেন, আবার কেউ বিপদের মুহূর্তে মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেন। ওই ডেলিভারি কর্মী তাঁর কাছে ঠিক সেটাই করেছেন।
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটাগরিকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই যুবক। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানবিকতার প্রশংসা করেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার তাঁর নাম ও যে সংস্থার হয়ে তিনি কাজ করেন, তা প্রকাশ্যে আনার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তাঁর এই সাহসিকতার যথাযথ স্বীকৃতি মেলে।
একটি পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তই বুঝিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয় শুধু তাঁর পেশায় সীমাবদ্ধ নয়। বিপদের সময়ে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে চেনায়।





