নয়া দিল্লি: দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তলব পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টেয় কমিশনের সামনে হাজির হতে হবে তাদের। প্রয়োজন হলে পরের দিন, অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বরও শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ১২ সেপ্টেম্বরই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়েছিল তৃণমূলের দুই শিবির। দু’পক্ষই নিজেদের দাবি ও অবস্থানের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়। সেই শুনানির পরেই কালীঘাট শিবিরকে ফের ডেকে পাঠাল কমিশন। ফলে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে জটিলতা আরও নতুন মাত্রা পেল।
কী কারণে ফের ডাক?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী শিবির গত শুনানিতে যে সমস্ত নথি জমা দিয়েছে, সেগুলি কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকেও দেওয়া হয়েছে। ওই নথিগুলির ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী শিবিরের কাছ থেকে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টের মধ্যে সেই জবাব কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কমিশনের ইমেইল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বরও হতে পারে শুনানি
১৬ সেপ্টেম্বর লিখিত জবাব জমা দেওয়ার পর প্রয়োজন হলে ১৭ সেপ্টেম্বর ফের শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে দিল্লির অশোকা রোডে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদের হাজির হতে হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কীভাবে তৈরি হল এই পরিস্থিতি?
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক আলাদা শিবির তৈরি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়।
এখন মূল প্রশ্ন, কমিশন শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরকে আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেবে? নাকি উপনির্বাচনের আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের নাম ও প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করার মতো কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানি তাই শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয় এবং আসন্ন উপনির্বাচনের সমীকরণের ক্ষেত্রেও তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।