হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর জল বেড়ে বিপদৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। শনিবার সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার জলের উচ্চতা ১৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপৎসীমার মাত্র ১৮ দশমিক ০৫ মিটারের চেয়ে নিচে। জল বাড়তে থাকায় পদ্মার দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বন্যার জল প্রবেশ করেছে। এতে এসব এলাকার অনেক পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মায় জল বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ০৫ মিটার। তিন ঘণ্টা পর দুপুর ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ১২ মিটারে। অর্থাৎ তিন ঘণ্টায় পদ্মার জল বেড়েছিল ৭ সেন্টিমিটার। এরপরও জল বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জল বাড়ার কারণে রাজশাহী শহরের বিপরীত পাশে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক বাসিন্দা। বিশুদ্ধ জল ও খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানান, পদ্মার জল বাড়লেও বর্তমানে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাঁধের কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এখনো পদ্মার জল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর দক্ষিণ তীরের চরাঞ্চলগুলোতে জল উঠতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ৬টায় পদ্মার জলের উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার। সেখান থেকে শুক্রবার সকাল ৯টায় তা বেড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিটারে পৌঁছেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টায় ১৭ দশমিক ৩০ মিটারে পৌঁছেছে।’
পদ্মার জল ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। ইতিমধ্যেই নিচু এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে জল ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবারকে বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নদীর জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফেও পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
জলবন্দি পরিবারগুলির জন্য খাবার, বিশুদ্ধ জল ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দুর্গত এলাকাগুলিতে কোনও ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব যাতে না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর জলস্তরের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আপাতত শহররক্ষা বাঁধ নিরাপদ থাকলেও পদ্মার জল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতিকে হালকা ভাবে দেখছেন না প্রশাসনের আধিকারিকরা। আগামী কয়েক ঘণ্টায় জলস্তর কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।




