হাবিবুর রহমান, ঢাকা : বৈঠকের শুরুর দিকে আন্তঃদেশীয় রেল চলাচলে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। তা এখন কালো মেঘে ঢাকা পড়ে আছে। ঢাকায় সচিবালয় সংলগ্ন রেলভবনে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় তিনটি রেল চলাচলে ভারত ও বাংলাদেশ তিনদিন ধরে চলা ৩৮তম বৈঠকের শেষের দিনে সংবাদ সম্মেলন করে ইতিবাচক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু এই বৈঠকে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী, খুলনা-কলকাতা বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি পুনরায় চালুর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি দুই পক্ষ।
মিতালী ট্রেনটি ঢাকা সেনানিবাস থেকে ছেড়ে পার্বতীপুর ও চিলাহাটি হয়ে সীমান্ত পার হয়ে হলদিবাড়ি এবং সেখান থেকে নিউ জলপাইগুড়িতে পৌঁছায়।দূরত্ব প্রায় ৫৯৫ কিলোমিটার (বাংলাদেশের অংশে ঢাকা থেকে চিলাহাটি ৪৫৩ কিমি এবং চিলাহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ৭১ কিমি)। এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ট্রেনগুলি বাংলাদেশ বন্ধ করেনি, তাই চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা সবুজ সঙ্কেত পেলে তবেই বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দূরত্ব কমানো, সময় ও যাত্রীদের ভাড়া হ্রাসের কথা মাথায় রেখে ঢাকা- কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে পুরনো যমুনা সেতুর পরিবর্তে নতুন পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রুট পরিবর্তন করে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি ট্রেনের মাধ্যমে পার্সেল পরিবহন এবং স্থগিত থাকা দ্বিপক্ষীয় রেল অবকাঠামো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
রেলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার রেলভবনে আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে। কেননা ভারত বন্ধ করেছে। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রকের এই আধিকারীক বলেন, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।




