বনগাঁ, নিউজ ডেস্ক: লটারির টিকিট কিনে রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেল বাগদার দিনমজুরের। এক কোটি টাকার লটারি জিতলেন খর্দ কুলবেরিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রভাত পাল। পেশায় দিনমজুর প্রভাতের হাতে এখন এক কোটি টাকা। তাঁর এই বিরাট জয়ে এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
প্রভাত পাল জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতোই ভাগ্য পরীক্ষা করতে হেলেঞ্চা থেকে লটারির টিকিট কিনেছিলেন তিনি। টিকিটে যে এক কোটি টাকার পুরস্কার রয়েছে, তা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। ফল প্রকাশের পর পুরস্কারের খবর জানতে পেরে কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি।
প্রভাত আরও বলেন, সারা জীবন দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের জন্য খুব বেশি কিছু করে উঠতে পারেননি। এমনকি, মাঝেমধ্যেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে লটারির টিকিট কিনতে বারণ করতেন। তবে ভাগ্য বদলের আশায় মাঝেমধ্যে লটারির টিকিট কাটতেন তিনি। এবার সেই লটারিই বদলে দিল তাঁর জীবন। প্রথম পুরস্কার জিতে তাঁর যেমন আনন্দ হয়েছিল, তেমন ভয়ও লেগেছিল। এক কোটি টাকা নিয়ে কার্যত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রভাস।
প্রভাতের স্ত্রীও স্বামীর এই জয়ে অত্যন্ত খুশি। তিনি বলেন, 'এক কোটি টাকা জেতাটা দিবাস্বপ্নের মত লাগছে। এবার একটা ভাল পাকা বাড়ি তৈরি করার স্বপ্ন আমার পূর্ণ হবে। রাতারাতি ভাগ্য বদলে উচ্ছ্বসিত বাড়ির সকলে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের একমাত্র রোজগেরে প্রভাত। দিনমজুরি করে সংসার চলে। সেই কাজও নিয়মিত থাকে না। ফলে কোনও রকমে তাঁর সংসার চলে। তাই অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে মাঝেমধ্যেই লটারির টিকিট কাটেন তিনি। আর সেই মতোই শুক্রবার সন্ধ্যাতেও তিনি লটারির টিকিট কেটেছিলেন। আর তাতেই তিনি রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন।
দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো প্রভাতের জীবনে এই বিপুল অর্থ যে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। হঠাৎ করে এক কোটি টাকা জেতার খবরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও খুশির হাওয়া। কীভাবে এই টাকা ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে পরিকল্পনা।
এক কোটি টাকা জেতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রভাতের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে সংসার চালিয়ে আসা পরিবারের কাছে এই অর্থ যেন নতুন আশার আলো। তবে হঠাৎ পাওয়া বিপুল অর্থ কীভাবে নিরাপদে রাখা ও ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও পরিবারের সদস্যরা চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। পাকা বাড়ি তৈরির পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানো এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার পর এই পুরস্কার তাঁদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।
এদিকে, লটারিতে প্রথম পুরস্কার জেতার পর প্রভাতের নিরাপত্তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনমজুরের কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালানো একজন সাধারণ মানুষের হাতে আচমকা এত বড় অঙ্কের অর্থ আসায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সতর্ক থাকতে চাইছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রভাতের কথায়, এই অর্থ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ভাগ্যবদল নয়, পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা দূর করার সুযোগও। তাই আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে চান তিনি। একসময়ের অনিশ্চিত সংসারে এবার স্থায়ী স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন প্রভাত ও তাঁর পরিবার।




