জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে চার ছাত্র। প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বাড়ুইকে মারধর, পিছু ধাওয়া করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং তাঁর চেম্বারে ভাঙচুরের ঘটনায় চিহ্নিত দশম শ্রেণির চার পড়ুয়াকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের জলপাইগুড়ির কোরক হোমে সেফ কাস্টাডিতে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ আগস্ট। অভিযোগ, ওই দিন জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বাড়ুইকে কয়েকজন ছাত্র পিছু ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনি রক্তাক্তও হন। শুধু তাই নয়, ভাঙচুর করা হয় প্রধান শিক্ষকের চেম্বারেও। স্কুলের ভিতরে প্রধান শিক্ষকের উপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়েও তৈরি হয় ব্যাপক শোরগোল।
এরপর শুক্রবার স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের ‘বেয়াদবি’ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি। ঘটনায় চিহ্নিত দশম শ্রেণির চার ছাত্রকে স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টি.সি. দেওয়ার নির্দেশও দেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। গতকাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ এক ছাত্রকে আটক করে। শনিবার আরও তিন ছাত্রকে আটক করা হয়। চারজনের বিরুদ্ধেই চাইল্ড উইথ কনফ্লিক্ট অফ ল (CCL) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে শনিবার ও রবিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড বন্ধ থাকায় আটক চার ছাত্রকে আপাতত জলপাইগুড়ির কোরক হোমে সেফ কাস্টাডিতে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হবে। এরপর বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার পিছনে শুধু ওই চার ছাত্রই ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। আরও কোনও ছাত্র এই ঘটনায় যুক্ত ছিল কি না, স্কুলের বাইরে থেকে কোনও বহিরাগত এসেছিল কি না, এমনকি কোনও অভিভাবকের ভূমিকা ছিল কি না সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে স্কুলের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সময় স্কুল চত্বরে কারা উপস্থিত ছিল এবং প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রধান শিক্ষক নিগ্রহের এই ঘটনায় একদিকে যেমন শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই স্কুলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। এখন জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।




