নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি, দেখা করেন হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতা জগদ্গুরু সতীশাচার্য মহারাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। হিন্দু ধর্মীয় নেতার কাছে সনাতন আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে বক্তব্য শোনেন তিনি। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক হিন্দু ধর্মীয় নেতা সনাতন আধ্যাত্মিকতা ও ভারতীয় ধর্মীয় দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। তাঁর বক্তব্য মন দিয়ে শুনছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এরপর ওই ধর্মীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতেও দেখা যায় ইরানের প্রেসিডেন্টকে। ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরের দুই ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ সামাজিক মাধ্যমে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের একজন হিন্দু ধর্মীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূত্র: https://x.com/Amandud2/status/2099024312275784040
অনেকেই এই মুহূর্তকে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য থাকলেও একে অপরের বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই সম্প্রীতির বার্তা দেয়। আবার সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন। ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শন, যোগ, ধ্যান এবং সনাতন ভাবধারা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্টের এমন আচরণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিমধ্যেই পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার ওই মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতা জগদ্গুরু স্বামী সতীশাচার্য জানিয়েছেন যে, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত তাঁকে একটি বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই বৈঠকটি নয়াদিল্লির দ্য ওবেরয় হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। আলাপচারিতার সময় জগদ্গুরু সতীশাচার্য মহারাজ সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক বার্তা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, ধর্ম মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে শেখায়।
জগদগুরু সতীষাচার্য মহারাজ হলেন কানপুরের (উত্তরপ্রদেশ) কল্যাণপুরে অবস্থিত প্রেমেশ্বর ধামের পীঠধীশ্বর। বেদ এবং শাস্ত্রে তার গভীর দক্ষতার জন্য পরিচিত, তিনি ২০২৩ সালে নির্বাণী, নির্মোহী এবং দিগম্বর আনি আখড়া সহ প্রধান সন্ন্যাসীদের দ্বারা জগদগুরু উপাধিতে ভূষিত হন। এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।