দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: অদ্ভুদ ঘটনা! সাপের নাম শুনলেই ভয়ে যেখানে গা শিউরে ওঠে, সেখানে কামড় খেয়ে জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাজির হাসপাতালে হাজির হলেন যুবক। এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
হাতে প্লাস্টিকের কৌটো, আর তার ভিতরে জীবন্ত চন্দ্রবোড়া। এমন দৃশ্য দেখে রাতের হাসপাতালে রীতিমতো শোরগোল শুরু যায়। চিকিৎসকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, প্লাস্টিকের কৌটো খুলতেই দেখা যায় তার ভেতরে জীবন্ত একটি বিষধর সাপ। যা দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হন চিকিৎসক থেকে নার্স থেকে রোগীর আত্মীয় সকলেই। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বনদফতরে। পরে জানা যায়, ওই জীবন্ত চন্দ্রবোড়ার কামড়েই আক্রান্ত হয়েছেন ওই যুবক। কিন্তু সাপের কামড় খেয়েও ওই যুবক দিব্যি বেঁচে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনতলা থানার নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের বনমালিপুর গ্রামের বাসিন্দা আরাবুল সর্দার রাতে ঘুটিয়ারিশরিফ থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রাতের অন্ধকারে আচমকা তাঁর ডান পায়ে কামড় দেয় একটি চন্দ্রবোড়া। আর তাতে চিৎকার করে ওঠেন আরাবুল। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু সরিয়ত আলি লস্কর টর্চ জ্বালিয়ে দেখেন, একটি চন্দ্রবোড়া দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। এরপরই সাপটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন সরিয়ত। ঢিলের আঘাতে সাপটি জখম হলে সেটিকে ধরে একটি প্লাস্টিকের কৌটোর মধ্যে ভরে ফেলেন। আক্রান্ত আরাবুল এবং জীবন্ত বিষধর সাপটিকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা দ্রুত পৌঁছে যান ঘুটিয়ারিশরিফ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারনে, আরাবুল সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। দেরি না করে শুরু হয় চিকিৎসা। তাঁকে দেওয়া হয় সাপে কামড়ের প্রতিষেধক এভিএস-এর ১০টি ভায়াল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। এরপর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরাবুল। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো অত্যন্ত জরুরি। তবে সাপ ধরতে গিয়ে ফের বিপদের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাপকে ধরার চেষ্টা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই নিরাপদ। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে বনদফতরের কর্মীরা এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।