নিউজ ডেস্ক: শ্রেণিকক্ষের ভোলবদল, শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে ‘পিএম শ্রী’। দেশের স্কুলশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের প্রায় ১৪ লক্ষ ৭১ হাজার স্কুলের ২৪ কোটিরও বেশি পড়ুয়ার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে তৃণমূল স্তরে কার্যকর করার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ বা ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্প, যার মাধ্যমে চিরাচরিত মুখস্থবিদ্যার বদলে একুশ শতকের উপযোগী আধুনিক ও আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, নতুন স্কুল না গড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিকেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ১৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। মূল লক্ষ্য ছিল সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি স্কুলকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে তৈরি করা।
ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের ৭২৫টি জেলা ও ৮ হাজার ৩৪০টি ব্লকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ১৩ হাজার ৯২টি স্কুল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকৃত হতে চলেছে ২০ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী। শুধু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি স্কুলই নয়, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয় বিদ্যালয় এবং এনসিইআরটি-র অধীনস্থ স্কুলগুলিকেও এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত করা হয়েছে। পরিকাঠামোগতভাবে এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৩০৫ টি প্রাথমিক, ৩ হাজার ১০২টি উচ্চ প্রাথমিক, ৩ হাজার ১৪১টি মাধ্যমিক এবং ৫ হাজার ৫৪৪টি উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান।
কোনো স্কুলকে এই তালিকায় স্থান পেতে গেলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ত্রিস্তরীয় নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রের বোঝাপড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ‘ইউডাইস প্লাস’ তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাই এবং শেষ ধাপে ‘চ্যালেঞ্জ মেথড’ ও সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে।