নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা এবং নিজের পছন্দের চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে শনিবার ইসলামাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। জেল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট এবং চিকিৎসার যাবতীয় নথি তলব করারও আবেদন জানিয়েছেন বুশরা।
১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় দায়ের হওয়া আপিলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক আবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন বুশরা। সেখানে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নতুন করে বিস্তারিত মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর রোগ নির্ণয়, এখনও পর্যন্ত কী চিকিৎসা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতের সামনে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বুশরার আবেদন, অবিলম্বে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দিয়ে তাঁর চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। নিজের পছন্দের চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতিও দিতে হবে তাঁকে। সেই চিকিৎসার খরচ তিনি নিজেই বহন করতে রাজি। জেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা ও উপযুক্ত চিকিৎসার পরিকাঠামো নিশ্চিত করারও আর্জি জানিয়েছেন ইমরানের স্ত্রী।
ইমরানের আইনজীবী ব্যারিস্টার সলমন সফদরও একই দিনে আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। সেখানে ২ নভেম্বর আদিয়ালা জেলে ইমরান ও বুশরার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। সফদর জানান, ৩১ অক্টোবর জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায়, ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টেয় ইমরান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় নির্ধারিত হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা পরে, বিকেল ৪টেয় শুরু হয় সেই সাক্ষাৎ। প্রায় ৪০ মিনিট তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান আইনজীবী।
সফদরের হলফনামা অনুযায়ী, সাক্ষাতের সময় বুশরার চোখে ছিল অত্যন্ত গাঢ় রঙের চশমা। ইমরান ও সফদর তাঁকে চশমা খুলতে বললে তিনি তা খোলেন। তখনই তাঁর চোখের সমস্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে দাবি আইনজীবীর। বুশরা তাঁকে জানান, সূর্যের আলো তো বটেই, ঘরের কৃত্রিম আলোও সহ্য করতে পারছেন না তিনি। চশমা ছাড়া চোখ খুলতেও অসুবিধা হচ্ছে। সফদরের পর্যবেক্ষণ, বুশরার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্ত্রীর এই অবস্থায় ইমরানকেও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, বুশরার কথায়, তাঁকে পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা ‘ম্যাচিওর ক্যাটারাক্ট’ বা পরিণত ছানি রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন। সেই কারণে আগামী ১৫ নভেম্বরের আশপাশে তাঁর চোখে আরও একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল তাঁর প্রথম চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তার পরেই তাঁকে আবার আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলের পরিচ্ছন্নতা এবং সেখানে পাওয়া চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বুশরা। তাঁর দাবি, চোখের পরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসা যেন তাঁর নিজের পছন্দের চিকিৎসকেরাই করেন। সফদর জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতের নজরে আনার আশ্বাস তিনি বুশরাকে দিয়েছেন।
ইমরানের স্ত্রী আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তোশাখানা-২ মামলাতেও তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁর চোখের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন নতুন করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




