কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। আগামী ছয় মাস তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে মামলার তদন্তে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ।
বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগে রানিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ মে দুর্গাপুরের একটি বাংলোয় এক ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে কীর্তি আজাদের এক সহযোগী ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে তাঁর রান্নার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর।
গোটা ঘটনার একটি অডিয়ো রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কীর্তি আজাদ-সহ তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে কীর্তির আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণেই সাংসদকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালে কীর্তি আজাদ কয়লা মন্ত্রকে চিঠি দিয়ে আসানসোলে কয়লা পাচারের অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী।
এই বক্তব্যের পরেই আদালতে পরিস্থিতি কিছুটা চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে। বিচারপতি কৌশিক চন্দ প্রশ্ন করেন, “তাহলে আপনি সৎ তৃণমূল?” এরপর রাজ্যের কাছে মামলার সঙ্গে যুক্ত অডিয়ো ক্লিপ শুনতে চান তিনি।
আদালতে সেই অডিয়ো ক্লিপিং শোনানো হয়। সেখানে ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অডিয়ো শুনেও আদালত আপাতত সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপের অনুমতি দেয়নি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে কীর্তি আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। এরপর ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে অন্তত সাত দিন আগে নোটিস দিতে হবে।
ফলে আপাতত আগামী ছয় মাসের জন্য কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে বড় কোনও পুলিশি পদক্ষেপের রাস্তা বন্ধ থাকল। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পাল্টা দাবি,দুই দিক নিয়েই এখন নজর থাকবে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে।