কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে। পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা এই চারটি বিমানবন্দর ও সিভিল এনক্লেভের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (AAI) মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাপত্র বা MoU স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নবান্নে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি কেন্দ্রের Regional Connectivity Scheme (RCS)-UDAN কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল অপেক্ষাকৃত কম বিমান-যোগাযোগ থাকা অঞ্চলে আকাশপথের সংযোগ বাড়ানো। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, UDAN-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন অনুন্নত ও পরিষেবাবিহীন বিমানবন্দরকে উন্নত করে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চারটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়ার ছররা বিমানক্ষেত্র। এই বিমানক্ষেত্রের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের অনুরোধে AAI ২০২৩ সালে ছররায় বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রি-ফিজিবিলিটি সমীক্ষা করেছিল এবং সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা-ও এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে। হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা ভারতীয় বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে বেসামরিক বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলির মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাজ্য সরকারের দায়িত্ব থাকবে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবং বিদ্যুৎ, জল, রাস্তা ও অন্যান্য সহায়ক পরিষেবার ব্যবস্থা করা। কেন্দ্রীয় সরকার বিমানবন্দরের মূল পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব নেবে এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিষয় দেখবে AAI।
এই চারটি বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় পরিষেবা ক্ষেত্রে বিমান যোগাযোগের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে শিল্পাঞ্চল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে MoU স্বাক্ষর হওয়াই বিমান পরিষেবা চালুর শেষ ধাপ নয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, অনুমোদন, বিমান সংস্থার আগ্রহ এবং নির্দিষ্ট রুটে পরিষেবা চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। UDAN ব্যবস্থায় বিমান পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলির বিড এবং রুটের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ফলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের MoU স্বাক্ষর এই চার অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হতে চলেছে। এরপর প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয় এবং কবে থেকে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা শুরু হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।