কলকাতা: ক্রিকেটের নন্দনকানন এবার সাক্ষী হতে চলেছে এক অন্যরকম মহালয়ার। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বড়সড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে মা দুর্গার চক্ষুদান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এই আচার সম্পন্ন করতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তবে অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।
ইডেনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। রাজ্যের ক্রীড়া দফতর দীর্ঘ সময়ের জন্য স্টেডিয়াম ব্যবহারের বিষয়ে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্গাপুজো সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও প্রস্তুতির জন্য ইডেন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মহালয়ার মূল অনুষ্ঠানে বাংলার লোকসংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রেড রোডে প্রস্তাবিত শোভাযাত্রায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। দার্জিলিঙের তামাং সেলো, কালিম্পঙের লেপচা নাচ, মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে, পশ্চিম বর্ধমানের সাঁওতালি নাচ, নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নৃত্য এবং বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার ছৌ সহ একাধিক লোকশিল্প পরিবেশনের কথা রয়েছে।
ইডেনের ভিতরেও থাকছে একাধিক চমক। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশের সময় প্রায় ১০ হাজার ঢাক একসঙ্গে বাজতে পারে। তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রায় এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিরও পরিকল্পনা রয়েছে। গায়িকা শ্রেয়া ঘোষালের পুজোর গান পরিবেশনের কথাও উঠে এসেছে।
শুধু গান-বাজনা নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারও থাকছে এই আয়োজনে। ‘মা আসছে–উমা স্টোরি’ থিমে 3D projection mapping show, drone show এবং আতশবাজির পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইডেনের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে। মাঠের ঘাস ও পরিকাঠামোর যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও মাঠের ক্ষতি এড়িয়ে কীভাবে অনুষ্ঠান করা হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
২০২৬ সালের মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়িত হলে ক্রিকেটের মাঠে বাংলার দুর্গাপুজো ও লোকসংস্কৃতির এক বড় মঞ্চ তৈরি হবে। এখন নজর মূলত ১০ অক্টোবরের অনুষ্ঠান এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির দিকে।