কলকাতা: বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত জানায়, এনকাউন্টার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ কোনওভাবেই নষ্ট বা মুছে ফেলা যাবে না। আগামী তিন সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার মধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করতে হবে।
বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। পরে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে গ্রেফতার হওয়া প্রভাস মণ্ডলই নাবালিকার দেহ কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর গত ৭ জুলাই রাতে তাঁকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে বেরিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য, সেই সময় সুযোগ নিয়ে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। এমনকি পুলিশের দিকে গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে। এরপর আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, নিজেকে এবং সহকর্মীদের বাঁচাতে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। সেই গুলিতেই প্রভাসের মৃত্যু হয়।
তবে পুলিশের এই দাবি নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে থাকে। কী পরিস্থিতিতে গুলি চলল, পুলিশের অস্ত্র কীভাবে অভিযুক্তের হাতে গেল এবং এনকাউন্টারের আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরিস্থিতি ঘিরে বিতর্ক বাড়তেই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে। মঙ্গলবার আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এই ফুটেজই এখন তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। এনকাউন্টারের আগে-পরে পুলিশ ও অভিযুক্তের গতিবিধি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং গোটা ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত কত দ্রুত এগোয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য তথ্য থেকে এনকাউন্টার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির কতটা উত্তর মেলে, সেদিকেই নজর থাকবে। তিন সপ্তাহ পর পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতির ছবিও স্পষ্ট হতে পারে।