হলদিয়া: সরকার গঠনের পর মাত্র চার মাস কেটেছে। তার মধ্যেই নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়ায় গিয়ে একদিকে যেমন সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরলেন, অন্যদিকে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিলেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, বিপুল জনসমর্থনে সরকার তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নিশ্চিন্তে থাকতে হবে। তমলুকের সাংসদ পদ ছাড়ার পরও কীভাবে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর কথায়, “যেদিন আমি তমলুকের সাংসদ থেকে সরে গিয়েছিলাম, সেদিন অনেকেই সাংসদের পরিষেবা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আপনাদের প্রয়োজনে, আপনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আমি প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে অভাব বুঝতে দিইনি।”
তবে শুধু আশ্বাস নয়, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধের মামলা নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের যে সমস্ত বিজেপি নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন বা মামলার মুখে পড়েছেন, তাঁদের দলগত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন।
শুভেন্দুর কথায়, “মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করার দায়িত্ব আমার। সেই দায়িত্ব পালন করব।” একইসঙ্গে নন্দীগ্রামের অবহেলিত ও অত্যাচারিত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের পেটে ভাত এবং মাথার উপর ছাদ নিশ্চিত করাই তাঁর অঙ্গীকার।
এরপরই সভার সুর আরও চড়ে যায়। নন্দীগ্রামে বিজেপির বিপুল জয়ের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, “ভোট আমি করতে জানি। আমি বলে দিলাম। এমন মার্জিনে নন্দীগ্রামে বিজেপি জিতবে, যেটা কখনও কল্পনা করতে পারেননি।” এরপরই তাঁর সংযোজন “বাকিটা সময় কথা বলবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মমতা তাঁকে হারাতে নন্দীগ্রামে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকেই হারিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। এবার গঙ্গা পেরিয়ে তাঁর নিজের এলাকায় গিয়ে তাঁকে হারিয়ে আসার দাবিও করেন শুভেন্দু।
সব মিলিয়ে হলদিয়ার সভা থেকে শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এল তিনটি স্পষ্ট বার্তা নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকা, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের আত্মবিশ্বাস। এখন তাঁর এই দাবির বাস্তব প্রতিফলন ভোটের ফলাফলে কতটা দেখা যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।