হাওড়া: হাওড়ার দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবি এবার পৌঁছে গেল রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এই স্টেশনের নাম তাঁর নামেই করার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতরে আবেদন জানিয়েছে অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা। মঙ্গলবার দিল্লিতে এই দাবিতে ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে রাজ্য কমিটির সদস্যরা দিল্লিতে গিয়ে এই দাবি জানান। তাঁদের প্রস্তাব, দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’-এর নামে রাখা হোক।
কেন এই দাবি? এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সাহিত্যিক ইতিহাস। দেউলটি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরেই রূপনারায়ণ নদীর তীরে অবস্থিত শরৎচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। জীবনের দীর্ঘ সময়ের একটি পর্ব এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর ওই বাড়িতে বসবাস করেছিলেন কথাশিল্পী।
শুধু বসবাস নয়, তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত এই জায়গা। ‘দেনা-পাওনা’, ‘বিপ্রদাস’, ‘শেষ প্রশ্ন’-সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য রচনা এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন শরৎচন্দ্র। বর্তমানে তাঁর সেই বাড়িটি সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে সাহিত্যিকের ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবও রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
রূপনারায়ণের তীরের সেই বাড়ি এবং দেউলটি স্টেশনকে ঘিরে শরৎচন্দ্রের স্মৃতি এখনও স্থানীয় মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে স্টেশনের নাম তাঁর নামে করার দাবি উঠতেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী জানিয়েছেন, শরৎচন্দ্র তাঁর সাহিত্যে মানবতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সমাজের প্রচলিত নীতি-নৈতিকতার গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিপীড়িত মানুষের কথা তাঁর লেখায় উঠে এসেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সংগঠনের বক্তব্য, এমন একজন সাহিত্যিকের স্মৃতিকে আরও দৃশ্যমান করতেই স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে স্টেশনের নাম পরিবর্তন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীর দফতরে আবেদন পৌঁছনোর পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার উপর নির্ভর করবে।
দেউলটি স্টেশনের নাম বদলের এই দাবি কার্যকর হলে রেলস্টেশনের নামের সঙ্গে শরৎচন্দ্রের স্মৃতি আরও সরাসরি যুক্ত হবে। একইসঙ্গে তাঁর বাসভবন ও সাহিত্যসৃষ্টির সঙ্গে জড়িত দেউলটি নতুন করে পর্যটক ও সাহিত্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।