নৈহাটি: ঝাড়খণ্ডে মাছ পাঠাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বাংলার মৎস্য ব্যবসায়ীরা। নৈহাটির রাজেন্দ্রপুর মৎস্য আরত থেকে ঝাড়খণ্ডে মাছ নিয়ে যাওয়া গাড়ির চালকদের ভয় দেখানো, মারধর এবং টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী টাকা না দিলে মাছ নষ্ট করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
নৈহাটির রাজেন্দ্রপুর মৎস্য আরত এশিয়ার অন্যতম বড় মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত। এই বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশেও মাছ পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে মাছ রফতানি করতে গিয়ে তাঁদের নতুন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মাছের গাড়ি ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ঢোকার পরই বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ি চালকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকটি ক্ষেত্রে চালকদের মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িতে থাকা মাছের মধ্যে বিষাক্ত কোনও তরল বা তেল ঢেলে মাছ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় সাতটি গাড়ির মাছ নষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে গাড়িচালকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন নৈহাটির রাজেন্দ্রপুর মৎস্য বাজারের ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনায় শিবদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টি রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রীর নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজেন্দ্রপুর মৎস্য বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সুগত ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, বাজারের উপর এমনিতেই ব্যবসার চাপ রয়েছে। যাঁরা মাছ বাইরে পাঠাচ্ছেন, তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ডে মাছ নিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’-এর মতো করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যদি পরিবহণের পথে এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মাছের সরবরাহ এবং দামের উপরও। বিশেষ করে মাছ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বলে পরিবহণের সময় কোনও ধরনের বাধা তৈরি হলে ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।
তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং মাছ নষ্ট করার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের বিষয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে মাছ পাঠানো ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের ব্যবসায়িক ক্ষতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।