চিত্তরঞ্জন: নিজের জমি নেই, কিন্তু চাষ করতে চান? এবার সেই সুযোগ তৈরি হতে পারে রেলের জমিতেই। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের রেলশহর চিত্তরঞ্জনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা রেলের ফাঁকা জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস বা CLW-এর তরফে এই বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রেলের জমিতে শুধু ধান, গম বা আলু নয়, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল এবং ভেষজ উদ্ভিদ চাষেরও সুযোগ থাকতে পারে। মঙ্গলবার এই উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে CLW কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিষয়টি আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন, এ নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানাতে তাঁরা এখনও রাজি হননি।
কেন ফাঁকা রেলের জমিতে চাষের পরিকল্পনা?
চিত্তরঞ্জন মূলত একটি পরিকল্পিত রেলশহর। একটা সময়ে শহরের বিস্তীর্ণ অংশে রেলকর্মী ও তাঁদের পরিবারের বসবাস ছিল। কিন্তু নতুন নিয়োগ কমে যাওয়া এবং বহু কর্মীর অবসরের ফলে বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহু রেল কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষের জবরদখল বিরোধী অভিযানের পর বেশ কিছু জমিও খালি হয়েছে। সেই জমির কোথাও খাটাল, কোথাও বেআইনি চাষাবাদ চলছিল বলে অভিযোগ। অভিযান চালিয়ে সেগুলি সরানোর পর জমির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফাঁকা জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার প্রশ্ন সামনে আসে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, জমিগুলি নির্দিষ্ট নিয়মে কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা গেলে শহরে সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের জোগান বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাব
ফাঁকা রেল জমি লিজে দিয়ে চাষের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাবটি শ্রমিক সংগঠন CRMC-এর তরফে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন জমি ফাঁকা পড়ে থাকলে সেখানে ঝোপঝাড় তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তার বদলে নিয়ম মেনে চাষাবাদ হলে জমিরও ব্যবহার হবে, আবার স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
CRMC-র সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিং সিংয়ের দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা কাছাকাছি এলাকা থেকে কৃষিপণ্য পাওয়ার সুবিধাও পেতে পারেন।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে মতভেদও রয়েছে। CLW লেবার ইউনিয়নের সিটু নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জমি কৃষিকাজে লিজ দেওয়ার বদলে শিল্প গড়ে তোলার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রেলের জমিতে অনুসারী শিল্প তৈরি হলে তুলনামূলকভাবে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফলে শেষ পর্যন্ত কতটা জমি লিজ দেওয়া হবে, কারা সেই জমি পাবেন এবং কী কী শর্তে কৃষিকাজের অনুমতি মিলবে, সেই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়। CLW কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর।