দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়ের পাকাপোল এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষকে ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল। ISF নেতা-কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তৃণমূল নেতা খায়রুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পোলেরহাট থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে আটক করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকাপোল এলাকায় ISF ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ISF-এর তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অন্যদিকে, দু’পক্ষের তরফেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জন ISF কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর থেকেই হামলায় কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবার খায়রুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার দুপুরে ধৃত তৃণমূল নেতাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা জানতে খায়রুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খায়রুল ইসলাম। তাঁর দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। ফলে ঘটনায় একদিকে যেমন ISF-এর অভিযোগ রয়েছে, তেমনই খায়রুল ইসলামের পাল্টা দাবি নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় পর ফের পাকাপোল এলাকায় ISF ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ISF-এর অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর প্রথমে হামলা চালানো হয়। তৃণমূলের তরফেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ভাঙড়ে এর আগেও রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে নতুন করে এই সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে ভাঙড় কলেজেও ISF ও ABVP সমর্থকদের সংঘর্ষে আট জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
এখন পুলিশের তদন্তে হামলার ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর। পাশাপাশি দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।