জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ তিন মাসের অপেক্ষার অবসান। বুধবার থেকে পর্যটকদের জন্য ফের খুলে গেল ডুয়ার্সের জঙ্গল। গরুমারা জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামারি-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শুরু হল পর্যটকদের প্রবেশ। জঙ্গল খোলার প্রথম দিনেই বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ভিড় দেখা গিয়েছে।
বর্ষার মরশুমে প্রতি বছরই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় জঙ্গল। এই সময়ে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বনাঞ্চলের ভিতরে বন্যপ্রাণীদের প্রজনন ও নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ফের জঙ্গল খুলতেই প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই গরুমারা এবং চাপড়ামারি-সহ বিভিন্ন বনাঞ্চলের প্রবেশপথে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। অনেকেই আগে থেকেই সাফারি ও থাকার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জঙ্গলে ঢোকার সুযোগ পেয়ে তাঁদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
ফের শুরু হয়েছে জঙ্গল সাফারি। পর্যটকেরা জঙ্গলের পথে ঘুরে বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। জঙ্গলের গভীরে থাকা বনবাংলোগুলিতেও ফিরেছে পর্যটকদের রাত্রিবাসের সুযোগ। ফলে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
তিন মাস বন্ধ থাকার সময় বন দফতরের তরফে বনবাংলোগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতির কাজ করা হয়েছে। পর্যটকদের থাকার উপযোগী করে তোলা হয়েছে বিভিন্ন পরিকাঠামো। সাফারি পরিষেবাও স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শুধু সাধারণ সাফারি নয়, পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কুনকি হাতি। বন দফতরের তরফে কুনকি হাতিগুলিকেও সাফারির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জঙ্গলের পথে হাতির পিঠে চড়ে বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণের।
জঙ্গল খোলার প্রথম দিনেই পর্যটকদের উপস্থিতি দেখে ডুয়ার্সের পর্যটন মহলে স্বস্তি ফিরেছে। আগামী দিনে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
বর্ষার দীর্ঘ বিরতির পর ফের সবুজ অরণ্যের দরজা খুলেছে। জঙ্গল সাফারি, বন্যপ্রাণীর দেখা এবং বনবাংলোর নিরিবিলি পরিবেশ,সব মিলিয়ে ফের পর্যটকদের জন্য তৈরি ডুয়ার্সের চেনা রোমাঞ্চ। এখন অপেক্ষা, জঙ্গলের পথে কবে দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত বন্যপ্রাণীর!