মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে ক্রমশ জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। একই দলের দুই শিবিরের দুই প্রার্থীকে ঘিরে কার্যত ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’ লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির রেজিনগর থেকে প্রার্থী করেছে সফিউজ্জামান শেখকে। আর এই প্রার্থীপদ ঘিরেই সামনে এসেছে আরও একটি রাজনৈতিক সমীকরণ।
ঋত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ সম্পর্কে জানা গিয়েছে, তিনি মুর্শিদাবাদের এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে। ফলে তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে সোমবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির।
নাম ঘোষণা হওয়ার পরই প্রচারে নেমে পড়েছেন সফিউজ্জামান শেখ। তাঁর বক্তব্য, দল তাঁর উপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে মাটি কামড়ে লড়াই করবেন তিনি। সংগঠনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকেই হাতিয়ার করে ভোটের ময়দানে নামছেন এই প্রার্থী।
সফিউজ্জামান বর্তমানে তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ। পেশায় শিক্ষক হওয়ায় এলাকায় ‘হাবিব মাস্টার’ নামেও পরিচিত তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। একসময় নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে স্থানীয় সংগঠন এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগকে প্রার্থীপদ পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে ঋত শিবির।
সফিউজ্জামানের প্রার্থীপদ নিয়ে আবু তাহের খানের অবস্থানও স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ভাগ্নে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে এবং সে জিতুক, সেটাই তিনি চান। প্রচারে গেলে প্রকাশ্যেই জানাবেন, কার হয়ে এবং কেন প্রচারে এসেছেন।
তবে সফিউজ্জামানকে প্রার্থী করার পর ভোট কাটাকাটির অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এর ফলে অন্য একটি শক্তির সুবিধা হতে পারে। এমনকী আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীকে সুবিধা করে দিতেই এই সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন আবু তাহের। তাঁর দাবি, বিজেপির মতোই আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ধর্মের নামে রাজনীতি করা শক্তির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতেই সফিউজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও রেজিনগরের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনভিত্তি রয়েছে। ফলে দুই শিবিরের দুই প্রার্থীকে ঘিরে লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে। রেজিনগরের উপনির্বাচনে সেই দ্বন্দ্ব এবার কার্যত প্রকাশ্যে। ফলে ভোটের লড়াইয়ে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেদের পাশাপাশি তৃণমূলের দুই শিবিরের এই টক্করই এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে। শেষ পর্যন্ত কার প্রার্থী ভোটবাক্সে এগিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।