কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে জল্পনার অবসান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সামনে এল প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রানি রথের নাম। বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, তাঁর নামেই ইতিমধ্যে নন্দীগ্রামে পোস্টার পড়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারই মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন হাসি রানি।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে একাধিক নাম সামনে এসেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মাকে ঘিরেই। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নন্দীগ্রাম ২১০ বিধানসভার জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেবেন হাসি রানি রথ। এরপর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বড় মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মিছিলটি হবে। নন্দীগ্রাম থেকে মিছিল করে হলদিয়ার কদমতলা মোড়ে জেলা শাসকের দফতর পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
এই মনোনয়ন পর্বে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। ফলে হাসি রানির মনোনয়ন ঘিরে বিজেপি যে বড়সড় রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা বলাই যায়। নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে হাসি রানি রথ নিজেই জানিয়েছিলেন, দল তাঁকে কোনও গুরুদায়িত্ব দিলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস চাকরিহারা শিক্ষিকা সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে পারেন,এমন জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল। পাশাপাশি ঋতব্রত শিবিরের তরফে এহতেশামুল হক এবং বামেদের তরফে CPI-এর শান্তিগোপাল গিরির নাম ঘোষণা হয়েছে।
রাজ্যের দুই কেন্দ্র,নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী নির্বাচন ও মনোনয়ন ঘিরে দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে।
নন্দীগ্রামে হাসি রানি রথের প্রার্থী হওয়ার খবর সামনে আসার পর এখন নজর ভোটের লড়াইয়ের দিকে। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার আবেগকে রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে কতটা জুড়তে পারে বিজেপি, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।