কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: 'জোড়াফুল' প্রতীক কার দখলে থাকবে? তা নিয়েই কার্যত টানাপোড়েন চলছে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে। সেই আবহে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করলেন কালীঘাট তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ঋত-শিবিরে থাকা তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। SLP ফাইল করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে বাকি বিধায়কদের উদ্দেশে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আপনাদের একটু অক্সিজেন দিলাম। আপনারা ফিরতে চাইলে ফিরুন। না হলে আপনাদেরও একই অবস্থা হবে।' একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ, অন্যদিকে তাঁর শিবিরের বিধায়কদের উদ্দেশে এমন কড়া বার্তায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা।
জানা গিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া ১০ জন বিধায়কের মধ্যে রয়েছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান ও রথীন ঘোষের। সামনেই উপনির্বাচন। তার আগেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত। ইতিমধ্যে প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে তৃণমূলের দুই শিবির। এদিকে প্রতীক ইস্যুতে ঋতব্রত শিবিরকে জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে কালীঘাট তৃণমূলকে তলব করেছে কমিশন। আগামী ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ফের কালীঘাট শিবিরকে শুনানির জন্য তলব করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের ছবি দেখা যায়। মূলত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে ভাঙনের সূত্রপাত হয়৷ চিঠিতে সই জালের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তারপরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় দল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একে একে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসেন বিধায়করা। নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি তুলেছেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতীক ইস্যুতে লড়ছেন কালীঘাট আর ঋতব্রত শিবির। কারণ, আগামী মাসেই রাজ্যের দুটি কেন্দ্রে রয়েছে উপনির্বাচন।
আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। আগামী ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। পরদিন অর্থাৎ ১৭ তারিখ স্ক্রুটিনি বা মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ চলবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। তার আগেই তৃণমূল প্রতীক নিয়ে ফয়সলা করতে চাইছে তৃণমূলের দুই শিবির।