কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কিছু প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়, আবার কিছু প্রশ্ন সময় পেরিয়ে গেলেও থেকে যায় অমীমাংসিত। কলকাতার অন্যতম প্রাচীন তীর্থস্থানকে ঘিরে, তেমনই কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে যে সম্পদ ঘিরে নানা অভিযোগ, জল্পনা ও আইনি টানাপোড়েন, এবার তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন তৎপরতা। মন্দিরের সম্পদ, পরিচালন ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত গয়না নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কালীঘাট মন্দিরের গয়না ও সম্পত্তি ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হয়েছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি দিয়ে মন্দিরের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। চিঠিতে সরাসরি সিবিআইএর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এবং বিকল্প হিসেবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
তবে, এখানেই শেষ নয় কালীঘাট মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থাতেও বদল চেয়েছে সাবর্ণ পরিবার পরিষদ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন পরিচালন কমিটির গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। এই প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের দুজন সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, মন্দিরের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ ও ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর। অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয়নি। ফলে, এরপর থেকে মন্দিরের গয়না ও সম্পদের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি হয়েছে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।
কিন্তু, অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়, তা হল মা দক্ষিণাকালীর গয়না। পরিষদের দাবি, মন্দিরের গয়নায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই আমানতের চাবি ১৯৮০ সাল থেকেই নিখোঁজ। ফলে, চাবি খুলে ভিতরের সামগ্রী পরীক্ষা না করা পর্যন্ত সেখানে থাকা সম্পদ ও গয়না ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই বলে দাবি তাঁদের।
এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ সালেও মন্দিরের অর্থ ও প্রণামী নিয়ে অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। প্রায় দুই দশকের পরে ফের মন্দিরের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। দেবর্ষি রায়চৌধুরীর বক্তব্য, জেলা জজের কাছে বিষয়টি জানানোর পর সাড়া না মেলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতেও প্রতিকার না মিললে জনস্বার্থ মামলা করার কথাও ভাবা হচ্ছে। ফলে, কালীঘাট মন্দিরের গয়না ও সম্পদ নিয়ে এই আইনি টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।