হায়দ্রাবাদ, নিউজ ডেস্ক: একাদশ শ্রেণির এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ। মাদক খাইয়ে ওই পড়ুয়াকে অপহরণ করা হয় এবং পরে একাধিক জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দ্রাবাদে। ঘটনায় মোট ন’জনের নাম সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ সেপ্টেম্বর। জানা গিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি রেলস্টেশনে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেখানেই কয়েকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, এরপর তাকে মাদকজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। অসুস্থ ও অচেতন অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাকে সেখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এক জায়গায় নয়, বিভিন্ন স্থানে ওই নাবালিকাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। গাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল এবং ট্রেন—বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরের দিন কোনওভাবে অভিযুক্তদের হাত থেকে বেরিয়ে আসার পর ফের তাকে আটক করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর ট্রেনে করে তাকে অন্য একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত একটি অটো থেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় ওই কিশোরী। বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায় সে। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সেই অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং একে একে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এছাড়াও, যে হোটেলে নাবালকটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পুলিশ সেই হোটেলের ম্যানেজার ও মালিককেও গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্তে ওই হোটেলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নাবালিকাকে সেখানে থাকতে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মেয়েটি এর আগেও সামাজিক মাধ্যমে ধৃতদের মধ্যে কয়েজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচিত ছিল। যদিও তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে নাবালিকার পূর্বপরিচয় ছিল কিনা, তাকে কোথায় কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার পিছনে আরও কে কে জড়িত? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা ও বয়ানও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।