নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক আলোচনাই ছিল মূল আকর্ষণ, তখনই সামনে এল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। মূলত সেখানে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এসেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ভারতে পা রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তিনি। তারপরেই একেবারে ফুরফুরে মেজাজে ধরা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ব্রিকস সম্মেলনেই বলিউডের ছোঁয়া। দিল্লির একটি হোটেলে পিয়ানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি গেয়ে শোনালেন কিশোর কুমারের কালজয়ী গান 'খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত'৷ গানটি ১৯৬৫ সালের হিন্দি ছবি ‘তিন দেবিয়াঁ’-র। মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও। ভারতীয় সংগীতের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহের কথা আগেও সামনে এসেছে। এবার সেই পছন্দেরই প্রকাশ ঘটল BRICS-এর বিশেষ নৈশভোজে। সেখানে জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের চমকে দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: https://x.com/AdityaRajKaul/status/2098831340657614885?s=20
শুধু তাই নয়, ভারত সফরে এসে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। রবিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। জানা গিয়েছে,মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতে ভারত-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ইতিমধ্যে এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
উল্লেখ্য, ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে থাকে। আনোয়ার ইব্রাহিমের ভারত সফরে ইতিমধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারই মধ্যে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে এই প্রাতরাশ বৈঠক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০২২ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আনোয়ারের প্রথম ভারত সফর। আর শুরুতেই ভারত-মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। দুই দেশের সম্পর্ককে 'সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব'-এর স্তরে উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটন সহযোগিতা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।