আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করার পরামর্শ দিলেন তিনি। একই সঙ্গে জানালেন, নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু জ্বালানি পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই নিশানা করা উচিত নয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আয়ারল্যান্ড সফরে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা চালালে তার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের উপর পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার কারণে ডিজেলের ঘাটতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলেও তেল ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে আক্রমণের আওতার বাইরে রাখা উচিত।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন একাধিক রুশ তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির জেরে রাশিয়াকে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত আগস্টে রাশিয়ার আমদানি করা পেট্রলের বড় অংশ ভারত থেকে এসেছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রাশিয়ার পেট্রল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। নিজেদের পরিশোধন ক্ষমতার উপর হামলার প্রভাব সামাল দিতেই মস্কোকে বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের আরও একটি দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাংবাদিকরা তাঁকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির তুলনা টানা হয়।
জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্য নয়; বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ, একদিকে ইউক্রেনকে রুশ জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা না করার বার্তা দিচ্ছেন তিনি, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের জন্য ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থানের পিছনে একাধিক হিসাব থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব আমেরিকা-সহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়তে পারে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে জ্বালানি পরিকাঠামোকে আরও বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না দেওয়াই আপাতত ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই বার্তার প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই এখন দেখার। যুদ্ধের ময়দানে হামলার কৌশল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির টানাপোড়েন,দুইয়ের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।