নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বড়সড় বিপদের মুখে পড়ল একটি যাত্রীবাহী ফেরি। ২৪৩ জন যাত্রীকে নিয়ে ডুবে যায় একটি আস্ত জাহাজ। শনিবার সুরাবায়া বন্দর থেকে বানজারমাসিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’। মাঝপথে সমুদ্রের পরিস্থিতি আচমকা খারাপ হয়ে যায়। প্রবল ঢেউ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাহাজটিতে যাত্রী এবং কর্মী মিলিয়ে মোট ২৪৩ জন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পাওয়ার পরই উদ্ধার অভিযানে নামে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি। সমুদ্রপথে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি শুরু হয়। নিখোঁজ প্রায় ১৩০ জন যাত্রী। ১০৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজে সমুদ্রে জোরদার তল্লাশি চলছে। এখনও দেহ উদ্ধার হয়েছে ছ’জনের। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: https://x.com/GlobalChannel24/status/2099044247185887411?s=20
বানজারমাসিন সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অফিসের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, রবিবার ভোররাতের দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আগে ফেরির ক্যাপ্টেন প্রতিকূল আবহাওয়ার খবর দেন। সাগরে প্রায় ৩ মিটার উঁচু ঢেউ উঠছে এবং জাহাজটি একদিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে বিপদবার্তা পাঠান। এর প্রায় দু'ঘণ্টা পর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং উপকূল কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার খবর পৌঁছায়। উপকূল থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে জাভা সাগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির শেষ অবস্থান বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে জাভা সাগরে পাওয়া যায়। ওই এলাকায় তখন সমুদ্র ছিল অত্যন্ত উত্তাল। ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় আড়াই মিটার পর্যন্ত উঠছিল। ফলে উদ্ধারকারী দলের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধার অভিযানে একাধিক নৌযানের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজদের অবস্থান জানতে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ফেরিটির ঠিক কী কারণে বিপদ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতিকেই প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাজ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ম কার্যকর করার ঘাটতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বহু বার প্রশ্ন উঠেছে। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নৌযান চালানো, যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে সমালোচনা।