হাবিবুর রহমান, ঢাকা: প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। নিহত আসাদুল হক উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পীরগঞ্জের দানাজপুর সীমান্তে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের রায়গঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রোববার রাতে তাঁর মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে মরদেহটি দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি ও পুলিশ।
এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে বিএসএফ। আটক মোস্তাকিম একই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে। তবে এখনও এই দুইজন ভারতে আটক রয়েছেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় সীমান্ত এলাকায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশ, বিজিবি এবং ভারতের রায়গঞ্জ থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গ্রহণের পর স্থানীয়ভাবে পরবর্তী দাফন কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
সীমান্তে গুলির ঘটনায় তিন বাংলাদেশি আহত হওয়া এবং একজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আটক দুই বাংলাদেশির বিষয়েও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন স্বজনরা।