কলকাতা: নন্দীগ্রাম নিয়ে ফের তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতি। উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে সরাসরি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি কংগ্রেস। বরং নিচুতলার কর্মী ও প্রদেশ নেতৃত্বের আপত্তির কথা জানিয়ে তৃণমূলের প্রস্তাব কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়।
এবিপি আনন্দের ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানে এই খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কেসি বেনুগোপালের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমন্বয়ের বার্তা দিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
জানা গিয়েছে, প্রস্তাবটি ছিল—নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেবে তৃণমূল। পরিবর্তে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করবে। অর্থাৎ, আসন সমঝোতার মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে মমতার প্রস্তাব পাওয়ার পরই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলতে থাকে। এরপর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৃণমূলের রাজ্যসভার এক সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে দাবি প্রতিবেদনে। তাঁকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মী, প্রদেশ নেতৃত্ব এবং দলের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার পক্ষে নয়।
ফলে নন্দীগ্রাম নিয়ে দুই দলের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কংগ্রেস এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের একটি বড় বার্তা যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও তৈরি হল না।
এর পাশাপাশি, তৃণমূলের অন্দরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এরপরই নন্দীগ্রাম আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে কালীঘাটের তৃণমূল। সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি। ফলে নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূলের লড়াই কতটা জমে ওঠে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
একদিকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব, অন্যদিকে তৃণমূল-কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমঝোতা ভেস্তে যাওয়া—সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে, ভোটের ময়দানে শেষ পর্যন্ত কোন দল কতটা জনসমর্থন নিজেদের দিকে টানতে পারে।