জয়পুর: রাজস্থানের পুরভোটের ফলাফলে একদিকে যেমন বিজেপির দাপট দেখা যাচ্ছে, তেমনই একাধিক চমকপ্রদ ফল নজর কেড়েছে। কোনও ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র এক ভোট, কোথাও আবার জেন জি প্রার্থীদের জয় হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বামেদের কাছ থেকে। বিকানের জেলার নোখা পুরসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বোর্ড গঠনের পথে সিপিআইএম।
সোমবার রাত পর্যন্ত রাজস্থানের ১০,২৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০,২৩৫টির ফল ঘোষণা হয়েছে। তার মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ৩,৬১৩টি। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থীরা ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন। ফলে বহু পুরসভায় বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে নির্দলদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজ্যের ১০টি পুরনিগমেও ভোট হয়েছে। জয়পুর, কোটা এবং আলওয়ারে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিকানের, আজমের ও পালিতে সাফল্য পেয়েছে কংগ্রেস। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলগুলির একটি এসেছে ঝলওয়ার পুরসভায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার রাজনৈতিক কেন্দ্রের অন্তর্গত এই পুরসভা গিয়েছে কংগ্রেসের দখলে। ভরতপুরে আবার নির্দল প্রার্থীদের দাপট দেখা গিয়েছে।
তবে ফলাফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি করেছে পর্বতসর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে বিজেপির প্রার্থী কৈলাসচাঁদ পেয়েছেন মাত্র একটি ভোট। ওই ওয়ার্ডে ৩৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের হিনা খানাম। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নির্দল প্রার্থী রশিদ খান।
নিজের প্রাপ্ত ভোট নিয়ে কৈলাসচাঁদের বক্তব্যও বেশ চমকপ্রদ। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আসলে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। অথচ তাঁকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডে একজন ভোটার তাঁকে ভোট দিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে রাজস্থানের পুরভোটে নজর কেড়েছেন তরুণ প্রার্থীরাও। ২১ বছর বয়সি কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ সেলিম এবং বিজেপির নেহা শর্মা জয় পেয়েছেন। নেহা শর্মাকে পুরপ্রধান করা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে পুর রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের প্রবেশও এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।
কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে বামেদের ফলাফলই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনায়। বিকানের জেলার নোখা পুরসভায় মোট ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে সিপিআইএম। বিজেপি জিতেছে ১৩টি ওয়ার্ডে এবং নির্দলরা পেয়েছেন তিনটি আসন। অর্থাৎ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠনের পথে বামেরা।
এবারের পুরভোটে মোট ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছিল সিপিআইএম। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন জয়ী হয়েছেন বলে খবর। ফলে গেরুয়া দাপটের মধ্যেও রাজস্থানে বামেদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে রাজস্থানের পুরভোটের ফল একাধিক বার্তা দিয়েছে। বিজেপি সামগ্রিকভাবে এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি নির্দলদের উল্লেখযোগ্য উত্থান এবং নোখায় সিপিআইএমের দাপট,সব মিলিয়ে পুরভোটের অঙ্ক একেবারেই একমুখী নয়। আগামী দিনে কোন পুরসভায় কার বোর্ড গড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।