উত্তর প্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসে জাল ধাতব মুদ্রা তৈরির যে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালেই আছড়ে পড়ল। উত্তর প্রদেশের বাজার ছেয়ে ফেলা প্রায় ৭০ কোটি টাকার জাল ২০ টাকার কয়েন পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল সাহারানপুর জেলা পুলিশ। রবিবার জেলার তিতাওয়া এলাকায় নতুন একটি কারখানা তৈরির উদ্দেশ্যে ভারী যন্ত্রপাতি পাচারের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে মূল পাণ্ডা-সহ মোট পাঁচজনকে। সম্প্রতি এই জেলারই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কারেন্সি চেস্ট থেকে ১৭ কোটিরও বেশি জাল নোট উদ্ধারের তদন্তে নেমেছে এনআইএ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাল মুদ্রার এই বিরাট সাম্রাজ্যের হদিস মেলায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে মোহালির এক প্রাক্তন স্বর্ণকার, পঞ্চাশোর্ধ্ব উপকার লুথরা ওরফে অভয় প্রতাপ সিং। ২০০১ সাল থেকেই জাল ধাতব মুদ্রা তৈরির কারবারে হাত পাকানো উপকারের খোঁজে একসময় এক লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল দিল্লি পুলিশ এবং ২০১৭ সালে সে ধরাও পড়েছিল। তিহার জেলে বন্দি থাকার সময়ই সাহারানপুরের বাসিন্দা হিমাংশু ওরফে গুল্লুর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে জেল থেকেই এই অপরাধমূলক সাম্রাজ্যের জাল বিস্তার করে তারা। এই সূত্রে তাদের সঙ্গে হাত মেলায় মুজফফরনগরের কুলদীপ, ভদোহীর অনুরাগ পাল ওরফে লঙ্কেশ এবং বিহারের সন্তোষ চৌরাসিয়া।
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, এর আগে হরিয়ানায় তাদের একটি সক্রিয় কারখানা ছিল। সেই ঘাঁটি গুটিয়ে সাহারানপুরে নতুন ইউনিট চালুর তোড়জোড় করছিল তারা। অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় চলত এই মুদ্রা তৈরির কাজ। প্রতিটি ২০ টাকার জাল কয়েন তৈরিতে চক্রটির খরচ হতো মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা, যা মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্টদের কাছে বিক্রি করা হতো ১২ থেকে ১৫ টাকায়। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার জাল কয়েন তৈরির ক্ষমতা ছিল তাদের। সন্দেহ এড়াতে এবং দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে দিতে চক্রটি মূলত মদের দোকান, জাতীয় সড়কের টোল প্লাজা ও বড় মুদি দোকানগুলিকে কমিশন দিয়ে ব্যবহার করত। অভিযান চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে ৬,৪০০টি তৈরি ২০ টাকার জাল কয়েন, আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের অর্ধসমাপ্ত কয়েন এবং ছয়টি স্বয়ংক্রিয় কয়েন তৈরির ভারী মেশিন।
এছাড়াও বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিপুল পরিমাণ লোহার ডাই, ডাই পালিশের যন্ত্র, গ্রাইন্ডিং স্টোন, লোহা কাটার করাত এবং ওজন মাপার ইলেকট্রনিক যন্ত্র। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চক্রের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা আলাদা করে ভাগ করা ছিল, যাতে কেউ একজন ধরা পড়লেও মূল নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত থাকে। বাজেয়াপ্ত আটটি মোবাইল ফোন ও সাতটি খতিয়ান খতিয়ে দেখে এখন উত্তর প্রদেশ,পাঞ্জাব ও বিহারে ছড়িয়ে থাকা এজেন্টদের জালে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।