কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রবিবারই নন্দীগ্রাম-রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কালীঘাট তৃণমূল। এবার প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতপন্থী তৃণমূল। জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের প্রার্থী মহম্মদ সামিউল হক আর রেজিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন সফিউজ্জমান শেখ। উপনির্বাচনে ঋতপন্থী ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের লড়াই কতটা হবে সেই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
অন্যদিকে, আসন্ন উপনির্বাচনের কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে৷ আর রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন রবিউল আলম চৌধুরী৷ অর্থাৎ কোনও রাজ্যের কোনও কেন্দ্রের প্রার্থী হচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে জটিলতা এখনও অব্যাহত। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কালীঘাট এবং ঋতব্রত - দুই শিবিরের সঙ্গেই বৈঠক করেছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক কারা পাবে, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই আবহেই আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। এদিকে প্রতীক ইস্যুতে ঋতব্রত শিবিরকে জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে কালীঘাট তৃণমূলকে তলব করেছে কমিশন। আগামী ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ফের কালীঘাট শিবিরকে শুনানির জন্য তলব করেছে কমিশন।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে দুই কেন্দ্রে জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। ফলে ওই কেন্দ্র বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে। তাই উপনির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন নন্দীগ্রামবাসী। তবে ওই কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। অন্যদিকে, নওদা ও রেজিনগর থেকে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি রেজিনগর আসনটিট ছেড়ে দেন। সেখানে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করবেন বলে ঠিকও করে ফেলেন হুমায়ুন। ফলে দুই কেন্দ্রে বিধায়ক শূন্য হওয়ায় উপনির্বাচন হতে চলেছে।
আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। দেশের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গেও। আগামী ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর দুই বিধানসভা কেন্দ্র ও পুদুচেরির এক কেন্দ্রে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভোট হবে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেও। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। পরদিন অর্থাৎ ১৭ তারিখ স্ক্রুটিনি বা মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ চলবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। তার আগেই তৃণমূল প্রতীক নিয়ে ফয়সলা করতে চাইছে তৃণমূলের দুই শিবির।