নিউজ ডেস্ক: গবাদি পশুর গোবর এবার শুধু বর্জ্য নয়, হতে চলেছে বিকল্প জ্বালানির অন্যতম উৎস। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রামাঞ্চলকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলার ২১টি জেলায় ইতিমধ্যেই বায়োগ্যাস ইউনিট বসানো হয়েছে। কেন্দ্রের ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর এবং দুর্গাপুরের সিএমইআরআই যৌথভাবে কাজ করছে।
সম্প্রতি এই উদ্যোগ নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অংশ নেন। কর্মশালায় নেতৃত্ব দেন সিএমইআরআই-এর অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা। গ্রামাঞ্চলে গোবর এবং রান্নাঘরের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে কীভাবে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সিএমইআরআই-এর তৈরি প্রযুক্তিতে মূলত গবাদি পশুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয়। সংস্থার অধিকর্তা জানিয়েছেন, এলপিজির ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জেলা পরিষদকে ঘরোয়া বায়োগ্যাস ব্যবহারে আরও উৎসাহ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়াই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিএমইআরআই-তে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত ব্যবস্থা। সংস্থার নিজস্ব কর্মী আবাসনের প্রায় ২৫০টি ঘরে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষমতা রয়েছে এই ব্যবস্থার। এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কেজি বর্জ্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পৃথক করা যায়। সেই বর্জ্য থেকেই প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। এই গ্যাস রান্নার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।
শুধু বায়োগ্যাস নয়, বর্জ্য থেকে ব্রিকেটও তৈরি করা হচ্ছে। ফলে একই ব্যবস্থায় বর্জ্য নিষ্পত্তি, জ্বালানি উৎপাদন এবং বিকল্প শক্তির ব্যবহার—তিনটি কাজই সম্ভব হচ্ছে। এই মডেলকেই রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২১টি জেলায় বায়োগ্যাস ইউনিট বসানো হয়েছে। শুধু গ্রাম নয়, হোটেল, বাজার, আবাসন এবং হাউসিং সোসাইটিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানার বক্তব্য, ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পের মাধ্যমে গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং জৈব সার তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন শক্তি উৎপাদন হবে, অন্যদিকে গ্রামও পরিচ্ছন্ন থাকবে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য তুলনামূলক কম খরচে এই প্রযুক্তি সরবরাহ করছে সিএমইআরআই। পাশাপাশি বায়োগ্যাসে মিথেনের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে কাজ চলছে। অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার প্রযুক্তিও তৈরি করেছে সংস্থাটি।
ফলে গোবর থেকে জ্বালানি তৈরির এই উদ্যোগ আগামী দিনে বাংলার গ্রামাঞ্চলে বিকল্প শক্তির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।