নিউজ ডেস্ক: একদিকে বদলে যাচ্ছে প্রজন্ম, অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে কথা বলার অভ্যাসও। একটা সময় ছিল, যখন বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই তৈরি হত ভাষার প্রথম পাঠ। কিন্তু, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই ছবি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। নতুন ভাষা শেখা, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া, সবই এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে, নতুন প্রজন্মের কথাবার্তায় জায়গা করে নিয়েছে একাধিক ভাষা। তাতে আপত্তি নেই, বরং জ্ঞান বাড়ানোর সাথে সাথে একাধিক ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কিন্তু, এই পরিবর্তনের মাঝেই একটি বিষয় নিয়ে সতর্ক করলেন কেন্দ্রের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতা। তাঁর কথায়, নতুন কিছু শেখার তাগিদে যেন নিজের শিকড় হারিয়ে না যায়।
হিন্দি দিবস উপলক্ষে মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশ্বের যত ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে অবশ্যই তা শেখা উচিত। কিন্তু, কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের ভাষাকে ত্যাগ করা উচিত নয়। নিজের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান ও গর্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দেশের অভিভাবকদের ও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর আবেদন, বাবা মায়েরা যেন সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলেন। তাঁর মতে, পরিবারের মধ্যেই মাতৃভাষার ব্যবহার নতুন প্রজন্মকে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সূত্র: https://x.com/ANI/status/2099349656174207030?s=20
পাশাপাশি, নিজের ভাষায় কথা বলাকে কোনওভাবে ছোট করে দেখার মানসিকতার বিরোধিতা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে করা অত্যন্ত বড় ধরনের হীনমন্যতা ছাড়া কিছুই নয়। বরং, মাতৃভাষাকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই শ্রেয়। অন্য ভাষা জানা যেমন দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিচয়, তেমনই নিজের ভাষাকে সম্মান করাও নিজের পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।
একইসঙ্গে, ভাষার সঙ্গে মানুষের আবেগ ও পরিচয়ের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভাষা শুধুমাত্র ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়। এরসঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের শিকড়, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি। তাই, একটি ভাষাকে ধরে রাখা মানে সেই ভাষার সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্য ও পরিচয়কেও ধরে রাখা। হিন্দি দিবসের মঞ্চ থেকে অমিত শাহের এই বক্তব্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার ও ভাষাগত গর্ব বাড়ানোর বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিশ্বের দরজা খুলতে যতই নতুন ভাষা শেখা হোক না কেন, নিজের ভাষা বা শিকড় যেন কখনও ত্যাগ না করা হয়।