উত্তর ২৪ পরগনা: রাত হলেই ব্যস্ত রাস্তার দু’ধারে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাস। কোথাও রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যায়, কোথাও আবার যান চলাচলেও তৈরি হয় সমস্যা। এবার এই ধরনের নাইট পার্কিং বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের কথা জানাল পরিবহণ দফতর। রাস্তায় রাতে বাস পার্কিং করলেই দিতে হবে ৭০০ টাকা করে চার্জ। এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং।
রবিবার কাঁকিনাড়া নারায়ণপুর স্টেডিয়ামে জেলা ফুটবল লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করতে গিয়ে নাইট পার্কিং নিয়ে এই ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় বেআইনি ভাবে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনও বাস রাস্তার ধারে রাতে পার্ক করা হলে তার জন্য বাসপিছু ৭০০ টাকা দিতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
অর্জুন সিং বলেন, নাইট পার্কিংয়ের জন্য ৭০০ টাকা করে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু আমলাতন্ত্রের উপর নির্ভর করে সরকার পরিচালনা করা যায় না। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও নিজের ক্ষমতা ও দায়িত্ব অনুযায়ী সক্রিয় থাকতে হবে।
পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও এদিন সরব হন মন্ত্রী। তিনি জানান, দফতরের ডিরেক্টর পদে থাকা এক আধিকারিককে সরিয়ে একজন আইএএস অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রশাসনের উপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিন বর্ধমানের বাস পরিষেবা নিয়েও কথা বলেন অর্জুন সিং। তাঁর কাছে খবর আসে, পরের দিন থেকে বর্ধমানে ১৩০টি মিনিবাস ধর্মঘটে যেতে পারে। এরপরই তিনি পরিবহণ দফতরের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান। শুধু বাস নয়, রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও দফতরকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে রাতের বাস পার্কিংয়ের জন্য ৭০০ টাকা চার্জের ঘোষণায় ইতিমধ্যেই বাস মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর করা হবে, কোন কোন রাস্তায় এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কোথায় থাকবে—তা নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।
প্রশাসনের যুক্তি, রাস্তার উপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখার প্রবণতা কমানো গেলে যানজট ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাস মালিকদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করে এই ধরনের চার্জ চালু করা হলে পরিবহণ শিল্পের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে পারে।
এখন নজর থাকবে, মন্ত্রীর ঘোষিত ৭০০ টাকার নাইট পার্কিং চার্জ ঠিক কবে থেকে কার্যকর হয় এবং বাস্তবে তা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়।