দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: দলবদলের জল্পনা ঘিরে নতুন করে শুরু রাজনৈতিক চর্চা। বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেও শেষ পর্যন্ত ‘সবুজ আবির’মেখে বাড়ি ফিরতে হল তৃণমূলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মীকে। এমনই অভিযোগ ঘিরে গঙ্গাসাগর ও ক্যানিংয়ে।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিজেপির সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন বুথের নেতৃত্ব বাছাই এবং জেলা নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। তার আগে গঙ্গাসাগরে তৃণমূলের প্রাক্তন উপপ্রধান-সহ কয়েকজন স্থানীয় নেতৃত্ব বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, দলে যোগদানের পরিবর্তে তাঁদের সবুজ আবির মাখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ক্যানিংয়েও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কয়েকজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরাও সবুজ আবির মেখে ফিরে যান বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি দলবদলের ক্ষেত্রে বেছে বেছে নেতৃত্বকে দলে নেওয়ার কৌশল নিচ্ছে? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? গঙ্গাসাগর থেকে ক্যানিং—দুই এলাকায় পরপর এমন ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে দলবদল নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজ্যে পালাবদল হতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 'বিজেপিতে তৃণমূলের ঠাঁই নেই। তিনি আরও বলেন, এখনই অন্য দলের কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। এরই মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন তিন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।সল্টলেকে বিজেপির দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন রাজ্যসভার প্রাক্তন তিন সাংসদ। তার পরেই শমীক জানিয়ে দেন, এই যোগদান ‘ব্যতিক্রমী’ ঘটনা। তিনি স্পষ্ট বলেন,‘তৃণমূলে যাঁরা দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই পাশে চেয়েছে বিজেপি।’
তৃণমূল জমানার অবসানের পর বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপির ৷ রাজ্যে পরিবর্তনের পর অনেকেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার অনেকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া নেতা-কর্মীরাও দলে ফিরতে চাইছেন। তেমনই গঙ্গাসাগর ও ক্যানিংয়ের নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেওয়া ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু গেরুয়া আবিরের বদলে সবুজ আবির মেখেই ফিরত হয় তাঁদের। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।