অঙ্কন দাস: কেউ বলেন সাগরমাথা, কেউ বলেন চোমোলাংমা। আসলে এগুলি যার নাম, সেটি বিশ্বের বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। হিমালয় পর্বতমালার মহালাঙ্গুর-হিমাল উপ-শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নেপাল ও চীনের (তিব্বত) সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতমালা। বিখ্যাত বাঙালি গণিতবিদ রাধানাথ শিকদার এই পর্বতের সঠিক দৈর্ঘ্য এবং উচ্চতা ত্রিকোণমিতি'র সাহায্যে বের করেছিলেন। বিখ্যাত ব্রিটিশ সার্ভেয়ার জর্জ এভারেস্ট-র নামে এই পর্বতটির নামকরণ করা হয়। তবে 'Jazzbaat 24 বাংলা'র প্রতিবেদনটি এটুকুতেই থামেনি। এর ভেতরে রয়েছে একটি খবর। সেটি জানানো যাক।
এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম পা রাখেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি। এরপর এভারেস্ট অভিযান বহুবার হয়েছে। বহু অভিযাত্রী এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন, এভারেস্ট জয় করেছেন। উড়িয়েছেন তাদের দেশের পতাকা। আর এখানেই ঘটেছে সেই ঘটনা, যার জন্য এই প্রতিবেদনটি লেখা। আসলে মাউন্ট এভারেস্ট ভাল নেই। ভাল নেই তার কারণ, মানুষ তাকে ভালো থাকতে দিচ্ছে না। মাউন্ট এভারেস্টের শরীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকছে মানুষের ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র। আরো ভালো করে বলতে গেলে এগুলি আসলে নানা রকম বর্জ্য পদার্থ। যা ক্রমাগত ক্ষতি করে চলেছে মাউন্ট এভারেস্টের।
এই ক্ষতি ঘটে যখন পর্বতারোহীরা টন টন আবর্জনা ফেলে যান মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়। এই আবর্জনার মধ্যে রয়েছে খালি অক্সিজেন ক্যানিস্টার,ভাঙা তাঁবু, পর্বতারোহণের সরঞ্জাম এবং প্লাস্টিকের বোতল এবং খাবারের মোড়ক। তবে এর থেকেও ভয়ানক ব্যাপার হল, হাজার হাজার দর্শনার্থী এবং সহায়তাকর্মীরা বেস ক্যাম্পগুলোতে বিপুল পরিমাণে মানব বর্জ্য ত্যাগ করেন। এই বজ্যগুলি ঠান্ডায় ভালোভাবে পচে না। এগুলি স্থানীয় জলাশয়ে মিশে যায়! এরফলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে। একারণেই বড় বেস ক্যাম্পগুলো থেকে উৎপন্ন হয় তাপ। আর তাই, খুম্বু হিমবাহ পাতলা হয়ে দ্রুত গলে যাচ্ছে! ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় আলপাইন বাস্তুতন্ত্র।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও(যেটির ছবি এই প্রতিবেদনে আপনারা দেখছেন) মাউন্ট এভারেস্টের এই পরিবেশগত সমস্যাটিকে আবারও তুলে ধরেছে। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতর এলাকাগুলোতে কিছু অভিযাত্রী দলের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করেছে এক পরিবেশগত সংকট। সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল ওই ফুটেজটি ক্যাম্প IV-র। এই ক্যাম্পটি ৭,৯০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই ক্যামটিকেই মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে আরোহণের আগে শেষ বিশ্রামস্থল বলে মানা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ৪সেকেন্ডে ওই ভিডিয়ো কঠোর বাস্তব তুলে ধরেছে। বরফের মধ্যে পড়ে আছে পরিত্যক্ত তাঁবু, খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ক্যান এবং অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র! ওই উচ্চতা থেকেই শুরু হয় 'মৃত্যু অঞ্চল'। কারণ এই জায়গাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। আর তাই, এখানে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা পর্বতারোহীদের জন্য একটি বড় ' চ্যালেঞ্জ'। এই কারণেই মাউন্ট এভারেস্টের এই অংশ থেকে বর্জ্য অপসারণ করা প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জিং!
মাউন্ট এভারেস্টে ফেলে আসা ওইসব বর্জ্য কমানোর জন্য নেপাল প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলি হল - ১) পর্বতারোহীদের দ্বারা সৃষ্ট আবর্জনার কিছু অংশ অপসারণ করার বাধ্যবাধকতা। ২) বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ৩) নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানো। ৪) যেসব এলাকায় শেরপাদের কাজে ঝুঁকি বেশি সেখানেও বর্জ্য অপসারণের জন্য ড্রোনের ব্যবহার। আশা রাখা যাচ্ছে পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করার পরেই আস্তে আস্তে 'সুস্থ' হয়ে উঠবে মাউন্ট এভারেস্ট।