নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। অভিনেতার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আর এর এক সপ্তাহ আগেই তার ম্যানেজার দিশা সালিয়নের দেহ মেলে এক বহুতল আবাসনের নিচে। বহুতলটি মুম্বাইয়ের মালাডে অবস্থিত। মেয়ের মৃত্যুর পর দিশা সালিয়ান-র বাবা বিচার চেয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হন। বম্বে হাই কোর্ট তার প্রতি সহৃদয়তা দেখায়।
সেই মামলাতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বম্বে হাই কোর্ট। এই শুনানির পর কোর্ট চত্বরেই অঝোরে কাঁদতে থাকেন সতীশ সালিয়ান। অর্থাৎ দিশা সালিয়ানের বাবা। উচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় 'এফআইআর দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তদন্ত হবে সংস্থার কোনও এক সিনিয়র অফিসারের নেতৃত্বে।'
সোমবার দিশার মৃত্যুতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। উঠে এসেছে একঝাঁক হেভিওয়েট নাম। সেইসব হেভিওয়েট ব্যক্তিরা রয়েছেন সন্দেভাজনদের তালিকায়! শিব সেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর পুত্র আদিত্য ঠাকরে, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অনিল দেশমুখের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। থানা থেকে শুরু করে ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকা চিকিৎসক এবং নার্সদেরও অভিযুক্ত তালিকায় রেখেছে সিবিআই
এই ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় মহারাষ্ট্রের হেভিয়েট ব্যক্তিত্বদের। সেসময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। দিশা সালিয়নের মৃত্যুতে নাম জড়ায় উদ্ধবপুত্র আদিত্য ঠাকরের। আদালতের দারস্থ হয়ে দিশা সালিয়নের বাবা দাবি করেন তাঁর 'মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেখানে আদিত্য ঠাকরে উপস্থিত ছিলেন। কারণ আদিত্য এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য জেনে ফেলেছিলেন দিশা।'
এফআইআর থেকে জানা যায় 'দিশার মৃত্যুর সময়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন উদ্ধব। তাঁর পুত্র আদিত্য এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্যোগে বহু নথিপত্র নষ্ট করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য পেশ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ নয়ছয় করে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করেছে পুলিশ।' এই প্রসঙ্গে উঠে আসে 'আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই দিশার আত্মহত্যার গল্প ফেঁদে প্রচার করা হয়েছে' - এই জাতীয় তথ্যও।