নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রমঞ্চে পুরস্কার জিতে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছিলেন পরিচালক অনুপর্ণা রায়। কিন্তু সেই ছবিই এবার দেশে মুক্তির ছাড়পত্র নিয়ে সমস্যায়। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ ছবিকে ঘিরে সেন্সর সংক্রান্ত আপত্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। ফলে বিদেশে সম্মান পাওয়ার পরও দেশে ছবিটির মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রায় এক বছর আগে ৮২তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অরিজন্তি’ বিভাগে পুরস্কৃত হয় অনুপর্ণা রায়ের এই ছবি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফরাসি পরিচালক জুলিয়া ডুকুরনোর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। সেই মুহূর্তে বাঙালি পরিচালক হিসেবে অনুপর্ণার সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরতেই ছবির সামনে তৈরি হয়েছে নতুন বাধা।
পরিচালকের দাবি, সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, ছবিটির বিষয়বস্তু সমাজের জন্য ইতিবাচক নয়। সেই কারণেই ছবিটিকে মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনুপর্ণা। যদিও সেন্সর সংক্রান্ত আপত্তির বিস্তারিত কারণ বা ছবির কোন কোন অংশ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ’-এর গল্প মুম্বইয়ে বসবাসকারী দুই মহিলাকে কেন্দ্র করে। ছবিতে অভিনয় করেছেন নাজ শেখ এবং সুমি বাঘেল। ছবির প্রযোজক বিভাংশু রায়, রোমিল মোদি এবং রঞ্জন সিং। অনুরাগ কাশ্যপ এই ছবির প্রেজেন্টার।
তবে অনুপর্ণা রায়ের সাফল্যের গল্প শুধু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার সরবড়ির কাছে নারায়ণপুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে এখনও ‘মাম্পি’ নামেই পরিচিত অনুপর্ণা। পড়াশোনা করেছেন নিতুড়িয়ার রানিপুর হাইস্কুলে। মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগ না পাওয়ার পর বাবা-মা তাঁকে ইংরেজি শিক্ষক মামার কাছে পাঠিয়ে দেন।
সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ। মামা নীলোৎপল সিংহের কাছ থেকে ইংরেজি সাহিত্য, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং জীবনকে অন্য দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পান তিনি। পরবর্তীতে গতানুগতিক পেশার পথে না গিয়ে দু’টি নামী কর্পোরেট সংস্থার চাকরি ছেড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে মন দেন।
২০২১ সালে পুরুলিয়ার পুঞ্চার ন’পাড়ায় তাঁর প্রথম ছবির শুটিং শুরু হয়। সেখানকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপে শুটিংয়ের পর ২০২৩ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘রান টু দ্য রিভার’। এরপর দ্বিতীয় ছবি ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ তাঁকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
এখন সেই পুরস্কারজয়ী ছবিরই দেশে মুক্তি আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনুপর্ণার পাশে দাঁড়িয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একাংশ। বিদেশে প্রশংসিত একটি ছবিকে দেশে কেন ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ফলে অনুপর্ণার ছবির ভবিষ্যৎ কী হয়, সেদিকেই নজর চলচ্চিত্রমহলের।