নয়াদিল্লি: কূটনৈতিক বৈঠক, রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা,ব্রিকস সম্মেলনের এমন গম্ভীর আবহের মাঝেই একেবারে অন্য মেজাজে নজর কাড়লেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সম্মেলন শেষ হলেও তাঁর বলিউডপ্রেম এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। একের পর এক জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার গান ব্যবহার করে ব্রিকস সফরের নানা মুহূর্ত তুলে ধরেছেন তিনি।
রবিবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরেছেন। সম্মেলন নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং ধন্যবাদবার্তা সমাজমাধ্যমে ভাগ করেছেন অনেকেই। তবে আনোয়ার ইব্রাহিমের পোস্টে ছিল আলাদা চমক। কূটনৈতিক মুহূর্তগুলিকে বলিউডের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেছেন তিনি।
ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানান। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে আনোয়ার ব্যবহার করেছেন শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’। মোদীর সঙ্গে অন্য একটি ছবির ক্ষেত্রেও তাঁর পছন্দ ছিল শাহরুখ খানের সিনেমার গান। সেখানে শোনা যায় ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর টাইটেল ট্র্যাক।
শুধু মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তেই নয়, ব্রিকস সম্মেলনে নিজের একাধিক কার্যকলাপের ছবিতেও বলিউডের ছোঁয়া দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেই পোস্টের ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করেছেন ‘হর দিল যো প্যায়ার করেগা’ ছবির জনপ্রিয় গান। ফলে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি কূটনৈতিক সফরের পাশাপাশি বলিউডের এক বিশেষ প্লেলিস্টে পরিণত হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিতেও ছিল চমক। সেই পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে আমির খান অভিনীত ‘লগান’ ছবির ‘চলে চলো’ গান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে আবার বেছে নিয়েছেন ‘নয়া দওর’-এর ‘সাথি হাত বাঁধনা’ গানটি।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাড়িতেও গিয়েছিলেন আনোয়ার। সেই সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করার সময় তাঁর পছন্দ ছিল ‘বীর জারা’ ছবির ‘অ্যায়সা দেশ হ্যায় মেরা’ গানটি। ফলে মোদী থেকে পুতিন, পেজেশকিয়ান থেকে রাহুল—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের সঙ্গেই জুড়ে দিয়েছেন ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় গান।
তবে আনোয়ার ইব্রাহিমের বলিউডপ্রেম যে নতুন নয়, তার প্রমাণও রয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই তাঁর এই বিশেষ পছন্দের কথা সামনে এসেছিল। গালা ডিনারে পিয়ানোর সুরে তিনি গেয়ে ওঠেন কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোয়ি হকিকত’। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিন দেবিয়াঁ’ ছবির এই গান আজও ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২০২৪ সালেও এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ারকে এই গান গাইতে শোনা গিয়েছিল। অর্থাৎ কিশোর কুমারের গানের প্রতি তাঁর অনুরাগ বেশ পুরনো। তবে ব্রিকস সফরের পর তাঁর বলিউডের প্রতি ভালোবাসা যেন আরও প্রকাশ্যে চলে এল।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনীতির গুরুগম্ভীর পরিবেশের মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিমের এই বলিউডি উপস্থাপনা যে ভারত-মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি অন্যরকম ছবি তুলে ধরেছে, তা বলাই যায়। রাজনীতি ও কূটনীতির বাইরে ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয়তা যে কতটা দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলিই যেন তার প্রমাণ।