পশ্চিম মেদিনীপুর: মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পার্টি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে সিপিআইএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাম শিবির। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বামেদের অভিযোগ, চন্দ্রকোনা রোডে সিপিআইএমের মিছিলকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। শুধু ভাঙচুর নয়, অফিসে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সিপিএম।
বামেদের দাবি, ঘটনার সময় পার্টি অফিসে একজন ছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার পর দুষ্কৃতীরা গেট টপকে ভিতরে ঢোকে। এরপরই অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তবে গোটা ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বরং তাদের পাল্টা দাবি, সিপিএমের মিছিল থেকেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। বড় বড় পতাকার সঙ্গে লাঠি নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের বের হতে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ বিজেপির।
বিজেপির ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব গৌতম কৌড়ি বলেন, “সিপিএম ৯০ দশকের রাজনীতি ফেরাতে চাইছে।” তাঁর অভিযোগ, মিছিলে বড় বড় ঝান্ডার সঙ্গে ডান্ডাও ছিল। তাঁর প্রশ্ন, এভাবে কি ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে?
গৌতম কৌড়ির আরও বক্তব্য, বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার চলছে এবং কোনওভাবেই ‘বন্দুক রাজনীতি’ ফিরতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ রাজনৈতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিজেপিও যে বামেদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলছে, তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে, সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের মিছিল দেখে ভয় পেয়েই বিজেপির লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। মিছিলে মানুষের উপস্থিতি দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ বামেদের।
এই ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে সিপিএমের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাদের পার্টি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, সিপিএমই লাঠি নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছিল।
চন্দ্রকোনা রোডে রাজনৈতিক সংঘাতের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। আপাতত দুই শিবিরের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যেই তদন্তের দিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।
আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সত্যতা কী, কারা এই ঘটনায় জড়িত,তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।