কলকাতা: কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। লেনিন, কার্ল মার্কসের মতো কমিউনিস্ট নেতাদের নামে থাকা রাস্তার নাম বদল হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এরই মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে রাস্তা করার পক্ষে সওয়াল করে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
সম্প্রতি লেনিন সরণি-সহ একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা তথাগত রায় জানিয়েছেন, লেনিন সরণি ছাড়াও আরও কয়েকটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে দেওয়া হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বামেরাও। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ পাল্টা দাবি করেছেন, বামফ্রন্ট যখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে থাকা রাস্তার নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের রাজনীতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির।
এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম সামনে আনলেন সজল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অবদান এবং তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই তাঁর নামে রাস্তা করার পক্ষে মত দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর সময়ে শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আবার সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে তাঁর সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
ফলে বুদ্ধদেবের নামে রাস্তা করার প্রস্তাব নিছক একটি নামকরণ সংক্রান্ত বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যখন একদিকে লেনিন ও কার্ল মার্কসের নামে থাকা রাস্তার নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন বিজেপি বিধায়কের মুখে বুদ্ধদেবের নাম যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি ও বামেদের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সেই আবহে সজল ঘোষের এই অবস্থান নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন কোন রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কমিটির কাছে যায় এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে রাস্তা করার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।