আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে বড়সড় বিপদের মুখে পড়লেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউক্রেন সফর শেষে ট্রেনে করে পোল্যান্ডের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর ট্রেনের কাছেই রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন বরিস-সহ ট্রেনে থাকা ইউরোপের একাধিক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা আধিকারিক।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ইউক্রেন সফরে গিয়েছিলেন বরিস জনসন। সফর শেষে কিয়েভ থেকে ট্রেনে করে পোল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট, জার্মান চ্যান্সেলরের উপদেষ্টা গুন্টার সাউটার-সহ ইউরোপের বেশ কয়েকজন কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
ট্রেনটি ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই শুরু হয় ড্রোন হামলা। পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক এবং ইউক্রেনের ইয়াহোদিন সীমান্তবর্তী এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন। ট্রেনে থাকা ভিভিআইপি যাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিছুক্ষণ ধরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পর বিপদ কেটে গেলে ফের ট্রেন চলাচল শুরু করে। ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় বরিস জনসন বা তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কোনও কূটনীতিকের ক্ষতি হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেন সফরের পর বরিস জনসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র এবং উন্নত এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য রাশিয়ার বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ব্যবহারের দাবিও তুলেছেন তিনি।
বরিসের দাবি, ইউক্রেনকে পূর্ণাঙ্গভাবে সাহায্য না করলে যুদ্ধের অবসান ঘটানো কঠিন হবে। তাঁর মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
ঘটনার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পোল্যান্ডও। পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার এই ধরনের হামলার কারণেই গোটা যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও হামলা নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রেনটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনের রেল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের উপর রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বরিস জনসনের ট্রেনের কাছাকাছি এই ড্রোন হামলার ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের জন্য তৈরি হওয়া ঝুঁকিকে ফের সামনে এনে দিল। সবচেয়ে বড় স্বস্তি, হামলার মধ্যেও বরিস জনসন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কূটনীতিকরা নিরাপদে রয়েছেন।