বিগত কিছুদিনে বারংবার উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। বিরোধীদের স্লোগান, একাধিকবার বিক্ষোভ আর ওয়াকআউট। সবমিলিয়ে যেন সরগরম দিল্লি। বারংবার কেন্দ্রকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। এই অচলাবাস্তার মধ্যেই বেশ কিছু বিল পাসে রীতিমতো নজির গড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাদল অধিবেশনের এখনো দুদিন বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে সংসদে ১৯ টি বিল পাস করা হয়েছে।
সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৩৬ মিনিটে পাস হয়েছে সাতটি বিল। অর্থাৎ প্রতিটি বিলের জন্য গড়ে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মিনিট বলে সংসদ সুত্রে জানা গিয়েছে। তবে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, দ্রুত বিল পাস হলেও সেগুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ মেলেনি। কিছু বিলের ক্ষেত্রে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘন্টা করে সংসদ চললে ১৫ দিনে মোট ৯০ ঘণ্টা অধিবেশন হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লোকসভা চলেছে মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। রাজ্যসভায় কার্যকর সময় ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট। অর্থাৎ অধিবেশনের বড় অংশই কেটেছে বিক্ষোভ ও অচলাবস্থায়। তবে বেশ কিছু বিলের ক্ষেত্রে সময়ও নেওয়া হয়েছে। যেমন পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস সংশোধনী বিল নিয়ে লোকসভায় ১১ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভায় ৭ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা হয়েছে।
তবে সংসদের অন্যতম বড় সংকট প্রকাশ্যে এসেছে। তা হল প্রশ্নোত্তর পর্ব। অষ্টাদশ লোকসভার প্রায় প্রতিটি অধিবেশনেই বিক্ষোভের জেরে এই পর্বের সময় কমেছে। ২০২৪ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের ৩ শতাংশ সময় নষ্ট হয়েছিল। শীতকালীন অধিবেশনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ।
২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনে নষ্ট হয় ৭৭ শতাংশ সময়। আর বর্তমান বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়নি বললেই চলে। আর এই কারনে সাংসদদের প্রশ্ন করারও সুযোগ মেলেনি। এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
একাধারে সংসদের অচলাবস্থা অন্যদিকে দ্রুত বিল পাশ। এই দুই বিপরীত ছবি ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সংসদের এই বিল।