JAZZBAAT 24 বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ঠিক যেন ঘন বনের মধ্যে দিয়ে; এঁকেবেঁকে,সবুজ চিরে, ছুটে চলেছে-কমলা রঙের নাগরাজ! সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি আঠারো সেকেন্ডের ভিডিয়ো। সৌজন্যে ভারতীয় রেল। এত কথা বলার কারণ;বেঙ্গালুরু ও ম্যাঙ্গালুরুর মধ্যে প্রস্তাবিত বন্দেভারত এক্সপ্রেস,একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মাইলফলকটি কী? আসুন জানা যাক-
দুর্গম পথ 'সাকলেশপুর-সুব্রহ্মণ্য রোড ঘাট' সেকশনের তরফে একাধিক পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১২ই, ১৩ই, ১৭ই, ১৮ই, ১৯শে ও ২০শে আগস্ট ধরে চলে এই পরীক্ষাগুলো। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথপারি দেওয়া ট্রেনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে বোঝা যায়, সমগ্র পথে ১:৫০ অনুপাতে খাড়া ঢাল রয়েছে। পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার। যিনি সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং তদারক করেন।
রেল মন্ত্রকের 'রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন' (RDSO)-র বিশেষজ্ঞদের একটি দল বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে গতি নিয়ন্ত্রণ, চালনা-ক্ষমতা এবং জরুরি ব্রেকিং দূরত্ব যাচাই। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে 'অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেক' (AEB) বা স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর। সমগ্র পথে AEB-র গতিসীমা ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নির্ধারিত হয়েছে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাট সেকশন দিয়ে যাওয়ার সময় এটি সক্রিয় থাকবে। ১:৫০ অনুপাতের খাড়া ঢাল থাকার জন্য এই রুটে ট্রেন চালানোর অনুমতি দেওয়ার সময় 'কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি' (CRS) এই গতিসীমা নির্ধারণ করে দেন।
ওই সেকশনে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে চেন্নাইয়ের 'ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি' (ICF)-তে ২০টি কোচবিশিষ্ট একটি বিশেষ 'বন্দেভারত রেক' (ট্রেন সেট) তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত ট্রেনের মতো বন্দেভারত ট্রেনে খাড়া ঢালে সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত অতিরিক্ত 'ব্যাঙ্কার লোকোমোটিভ' দিয়ে চালানো যায় না। একারনেই সাকলেশপুরে নিয়ে যাওয়ার আগে রেকটি মহীশূরে পৌঁছায় এবং ১১ই আগস্ট সেখানে এর 'স্ট্যাটিক টেস্টিং' সম্পন্ন হয়। RDSO-এর বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষাগুলো তত্ত্বাবধান করেন। তাঁরা এর গতি নিয়ন্ত্রণ, চালনা-দক্ষতা, ব্রেকিং দূরত্ব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা করেন।
পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ফলে, প্রস্তাবিত 'বেঙ্গালুরু-ম্যাঙ্গালুরু' বন্দেভারত পরিষেবাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করল। প্রয়োজনীয় বাকি অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই পরিষেবাটি চালু হবে। এমনটাই আশা করা হচ্ছে।