কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:এবার বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। গত জুন মাসে আদানি গোষ্ঠীর এমডি কর্ণ আদানি নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিউ টাউনে ‘আদানি হেলথ সিটি’ তৈরির প্রস্তাব দেন। এর নাম দেওয়া হবে ‘আরোগ্য মন্দির’। আগামী মাসেই শিলান্যাস হতে পারে। সব ঠিক থাকলে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি নিজেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল।
প্রায় ৫১.৭৫ একর জমিতে তৈরি হতে চলা এই হাসপাতাল প্রকল্পে জমির চরিত্র পরিবর্তন ও অন্যান্য ছাড় বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব ছাড় দেওয়ার কথা। প্রাথমিক হিসাবে প্রকল্পে ১,২০০ কোটি টাকা মূলধনী বিনিয়োগ হবে। নির্মাণ পর্বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্য ধরা হয়েছে আরও প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা। হাসপাতাল চালু হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা, মেডিক্যাল ট্যুরিজম এবং কর রাজস্ব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার ‘মনিটাইজড বেনিফিট’ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১,০০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৫০০টি বেডে রাজ্য সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে। ৮০ শতাংশ বেড অকুপেন্সি, গড়ে পাঁচ দিন ভর্তি এবং রোগী-পিছু প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা চিকিৎসা খরচের হিসাব ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকেই বছরে প্রায় ৮১৭ কোটি টাকার সুবিধা হতে পারে। কর্মসংস্থান ও কর্মীদের আয়ের আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা থেকে সম্ভাব্য সুবিধা প্রায় ৩২২ কোটি টাকা বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেডিক্যাল ট্যুরিজম থেকেও বছরে প্রায় ১,১৫৬ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলার রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্য রাজ্যে যাওয়া কমানো গেলে আরও প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার অর্থ রাজ্যের অর্থনীতির মধ্যেই ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। অতিরিক্ত GST বাবদ রাজ্যের আয় হতে পারে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড়ের বিনিময়ে প্রকল্পটি চালু হলে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-গবেষণা, চিকিৎসা পর্যটন এবং কর রাজস্ব, সব মিলিয়ে রাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রভাব পড়তে পারে বলে নবান্নের রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে।