JAZZBAAT 24 বাংলা ডেস্ক: 'এমন একটি স্থানে নতুন বিমানবন্দরের প্রস্তাব করা হবে যেখানে স্থানীয় জনগণের কোনো বিরোধিতা থাকবে না। বিশেষজ্ঞ দলগুলোর মাধ্যমে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাইয়ের পরই নতুন স্থানটি চূড়ান্ত করা হবে।' এই ঘোষণাটি করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, তথা 'টিভিকে' প্রধান টি জোসেপ বিজয়।
এর আগে তামিলনাড়ু সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল যে, 'চেন্নাইয়ের জন্য পারান্দুরে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হচ্ছে।' ক্ষমতায় তখন স্ট্যালিন। সেসময় চেন্নাই থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পারান্দুরে; এমকে স্ট্যালিন সরকারের প্রস্তাবিত,এই বিমানবন্দরের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছিল। বিজয় জানান 'বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্থানচ্যুত হওয়া থেকে বাঁচাতে এবং ওই এলাকার কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থেই এই প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।' ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিকে বিমানবন্দরের জন্য নির্বাচন করায় তিনি পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরপরই বিজয় সরকার জানিয়েছিল যে, প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থানটি তারা পর্যালোচনা করবে। গত জুন মাসে টিভিকে নেতা সিটিআর নির্মল কুমার ঘোষণা করেছিলেন যে, 'বিকল্প স্থান খোঁজার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সামগ্রিক পর্যালোচনা চলছে।' তিনি আরও জানিয়েছিলেন, 'এর ফলে স্থানীয় জলাশয় ও উর্বর জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।'
অন্যদিকে, বিরোধীদল ডিএমকে নেতা দুরাইমুরুগান আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন 'মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাদের ফাইলগুলো প্রকাশ না করেন, তবে আমরা বিধানসভায় তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার প্রস্তাব আনব। আমরা তাঁকে ফাইলগুলো খোলার সুযোগ দিচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি যদি তা না করেন, তবে বিধানসভায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার প্রস্তাব আনার বিষয়টি বিরোধী দল বিবেচনা করবে।'
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় একটি বড়সড় 'এলপিজি প্রকল্প'র কথাও ঘোষণা করেন।এক্ষেত্রে বিজয় বলেন, অন্নপূরণাই সুপার সিক্স প্রকল্পের আওতায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি পোঙ্গল উৎসবের দিন থেকে তামিলনাড়ুর প্রতিটি পরিবারকে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া হবে। তামিলনাড়ু সরকার তিনটি সিলিন্ডারের সমপরিমাণ অর্থ সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রতি বছর ৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে, যার ফলে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে।' তিনি আরও জানান, 'বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম এমন পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পরিবার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য রয়েছে এমন পরিবার এবং সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত বা অসহায় শ্রেণির মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।'
এই দুই উদ্যোগের ফলে বিজয়-র বিজয়োরথ ছুটছে। বোঝাই যাচ্ছে, কেন তিনি 'থালাপতি'।