কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে এবিভিপি-র সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সংঘর্ষের রেশ শুক্রবারও অব্যাহত। ইতিমধ্যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অশান্তির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি-র সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা, আগুন লাগানো এবং সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
মহুয়া মৈত্রের দাবি, এবিভিপি-র সদস্যরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে গেটের ঐতিহাসিক প্রতীকের উপর দাঁড়িয়ে সেটি ভেঙে দেন। ওই প্রতীকটির নকশা করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসু। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই স্থাপত্যের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
পোস্টে মহুয়া মৈত্র আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আগুন ধরানো হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ডিম ছোড়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, আশা করি, এই ‘পরিবর্তন’দেখে বাঙালিরা খুশি। যদিও তাঁর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবিভিপি-র তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া বা ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য এই মুহূর্তে সামনে আসেনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই রাজ্যের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা অশান্তির ঘটনা অতীতেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে নতুন করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে যাদবপুর কাণ্ডে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ই-মেল করে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনায় বারংবার উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ।
এমনকি ঘটনার সময় বা তার পরেও প্রশাসনিক কর্তাদের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সন্ধ্যার পর জানা যায়, গোটা ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করছে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে ওই তদন্ত কমিটির হাতে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।